চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উদ্বোধনী জুটিতে আগ্রাসী টাইগাররা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার অবসান ঘটাচ্ছেন। ৫ ওভার পর্যন্ত তাদের আগ্রাসী ব্যাটিং একটি শুভ সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আজ তিনটি একদিনের ম্যাচের সিরিজে র প্রথমটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

শেষ
খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫ ওভার খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২ রান। উদ্বোধনী জুটির ব্যর্থতার দেয়াল ভেঙ্গে তামিমের সংগ্রহ ১৫ বলে ১৬ রান। এবং সৌম্য সরকারের সংগ্রহ ১৫ বলে ৫ রান।

এবার আর তামিম ইকবালের ব্যর্থতার গল্প লেখতে হবে না বলেই মনে হচ্ছে। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ  পেস বোলার জুনায়েদ খান ও রাহাত আলীর উপর চড়াও হয়েই খেলছেন তিনি। এরই মধ্যে কয়েকটি নান্দনিক চারের মার দর্শকদের বিমল আনন্দে ভাসিয়েছেন।

অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুন্যে চিরচেনা আগ্রাসী রূপে তামিম ইকবাল। বোলারদের একের পর এক সীমানা ছাড়া করে এরই মধ্যে  পাকিস্তান শিবিরে শংকা ছড়িয়েছেন। 
তবে অপর প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেয়া হার্ড হিটার ব্যাটসম্যানকে সৌম্য সরকার
আজ যেনো একটু ধীর স্থির। ২০১৫ বিশ্বকাপে বোলারদের আতঙ্ক রূপে আবির্ভূত হওয়া
সৌম্য আজ একটু সাবধানি ভাবেই ব্যাটিং করছেন। 

মিরপুরের শেরে বাংলা
জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে
আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।  এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারদের
দ্বিতীয় সারির দলের সাথে পাকিস্তানের পরাজয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে
বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নেমেছেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সীদ্ধান্ত নেয় তারা।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারদের দ্বিতীয় সারির দলের সাথে পাকিস্তানের পরাজয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে এই ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না রনি তালুকদারের। তাকে
বাদ দিয়েই একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে আরেক ব্যাটসম্যান মমিনুল
হককেও পাচ্ছে না টাইগাররা।

আইসিসি’র নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে নামতে পারছেন না বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার জায়গায় আজ বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে আছেন সাকিব আল হাসান।

২০১২ ও ২০১৪ এশিয়া কাপে অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া হলেও ফতুল্লায় অনুশীল ম্যাচে বিসিবি একাদশের জয় আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে জাতীয় দলকে। ট্রফি উন্মোচনের দিন সাকিব বলেছেন, সিরিজ জয়ের টার্গেট নিয়ে তারা আগেও খেলেছেন, এবারও তাই খেলবেন।

Advertisement

সাকিবরা যে স্বপ্ন দেখছেন, তার কারণ শুধু নিজেদের ছন্দের মধ্যে থাকা নয়; পাকিস্তান দল যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটাও একটা কারণ। দীর্ঘদিন পর মিজবাহ-উল হক ও শহিদ আফ্রিদিকে ছাড়া ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে পাকিস্তান।

তবে আট মাস পর স্পিনার সাঈদ আজমালের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে একঝাঁক তরুণ প্রতিভার উপস্থিতিতে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন মাত্র ১৪ ওয়ানডে খেলা অধিনায়ক আজহার আলি। তিনি পাকিস্তানের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৩’র জানুয়ারিতে। দলে অভিজ্ঞ বলতে আছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও আজমল। পাকিস্তানের বর্তমান দলে শুধু এই দু’জনেরই ১০০ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে।

বাংলাদেশে এই ক্লাবের সদস্য পাঁচজন। বরাবরের মতো এবারও পাকিস্তান অধিনায়ককে ভরসা যোগাচ্ছেন তার বোলাররা। বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন ইনজুরি থেকে ফেরা জুনায়েদ খান ও বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করা ওয়াহাব রিয়াজ। তাদের সঙ্গ দেবেন স্পিনার আজমল ও হাফিজ।

বিসিবি একাদশের সঙ্গে হারার আগে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান জাতীয় দলের একমাত্র পরাজয় ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের জয়ের সেই ম্যাচে পাকিস্তান দলে থাকা ওয়াকার ইউনুস এখন কোচের ভূমিকায়।

এই ম্যাচে স্পটলাইটে থাকবেন বাংলাদেশের সাব্বির ও পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। অনুশীলন ম্যাচে ৮৪ বলের বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন সাব্বির। আর আট মাস দলের বাইরে থাকা আজমলের ঘুর্নিতে কোনো মরিচা ধরেছে কিনা নজর থাকবে সে দিকেও।

এ পর্যন্ত ৩২টি একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ পাকিস্তান। ৩১টিতেই জিতেছে পাকিস্তান।

দু’ দলের মধ্যে ম্যাচ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো। হয়নি যে তার কারণ দুই বোর্ডের মধ্যে কিছু টানাপোড়েন। গত তিন বছর চার মাসে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে দু’ দল। নিরাপত্তার কারণে দুইবার পাকিস্তান সফর বাতিল করে বাংলাদেশ। এর জের ধরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদের বোর্ড।

সম্প্রতি সফর বাতিলের জন্য বিসিবির কাছে পিসিবির ক্ষতিপূরণ দাবি এবং বিসিবির ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাসে অনেকটাই উন্নয়ন ঘটেছে দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে। সে পথ ধরেই ২০১১’র পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম সিরিজ।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আবুল হাসান, আরাফাত সানী, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন।

পাকিস্তান একাদশ

মোহাম্মদ হাফিজ, আজহার আলী, হারিস সোহেল, সাদ নাসিম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, ফাওয়াদ আলম, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, জুনায়েদ খান, সাইদ আজমল, রাহাত আলী।