চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উত্তর মেরুতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিষিদ্ধ করলেন ওবামা

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উত্তর মেরুর জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে খননকাজ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

ভবিষ্যতে লিজ নেয়ার ব্যাপারে উত্তর ও আটলান্টিক মহাসাগরের ওইসব অঞ্চলকে ওবামা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য খনন বন্ধ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বারাক ওবামার এই সিদ্ধান্তকে ক্ষমতা ছাড়ার আগে অঞ্চলটিকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানায় বিবিসি।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, “উত্তর মেরুর জন্য শক্তিশালী, টেকসই এবং ফলপ্রসূ অর্থনীতি ও বাস্তুসংস্থান” নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশগত ঝুঁকি এড়ানো এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ঘোষণায় কানাডাও তার নিজস্ব উত্তর জলসীমায় একই ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে কানাডা তার সিদ্ধান্ত প্রতি পাঁচ বছর পর পর পুনর্বিবেচনা করলেও হোয়াইট হাউজ ওবামার সিদ্ধান্তটি স্থায়ী বলেই নিশ্চিত করেছে।

সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে ১৯৫৩ সালের একটি আইনের ভিত্তিতে। ওই আইন অনুসারে, প্রেসিডেন্ট সমুদ্রে অবস্থিত যে কোনো সম্পদ লিজ দেয়ার ব্যাপারে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব যে তেলক্ষেত্রগুলো বর্তমানে রয়েছে সেগুলোর পুরো ব্যবহার তিনি করবেন। তার এই বক্তব্য পরিবেশবাদী দল ও সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের জন্য ওবামার এই সিদ্ধান্ত বদলানো যথেষ্ট কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবেশবাদী সংস্থা ফ্রেন্ডস অব দি আর্থ তার প্রতিক্রিয়ায় আশা প্রকাশ করে বলেছে, “এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট আগের কোনো প্রেসিডেন্টের সমুদ্রে তেল-গ্যাস উত্তোলন বন্ধ বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করেননি।”

সংস্থাটি আরো বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট ওবামার সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা করেন, তাকে এটা নিয়ে আদালত পর্যন্ত টানা হবে।

বিজ্ঞাপন