চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উইকেট নিয়ে ধূম্রজাল

ম্যাচ শুরু সকাল ৯.৩০ মিনিটে

সিলেট থেকে: উইকেট থেকে কমতে শুরু করেছে ঘাস। সবুজ সরে দৃশ্যমান হচ্ছে লালচে মাটি। পড়ন্ত বিকেলে উইকেটের রং বদল, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যাই বলে দিচ্ছে উৎসবের উপলক্ষ সন্নিকটে! নয়নাভিরাম সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষা কেবল এক রাতের।

শুক্রবার সকালে অনুশীলনে এসে মোবাইলে উইকেটের ছবি তুলে রেখেছেন বাংলাদেশের হেড কোচ স্টিভ রোডস। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে সলাপরামর্শ তো হলই। তাদের আলাপে কী ছিল সেটি জানার উপায় ছিল না। তবে জানা গেছে আরেকটু ভালভাবে উইকেট বুঝেই সিরিজের প্রথম টেস্টের একাদশ সাজাবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

সিলেট স্টেডিয়ামে উইকেট সাতটি। প্রথম টেস্ট হবে দুই পাশে তিনটি করে উইকেট রেখে মাঝেরটিতে। ভেন্যুর অভিষেক টেস্ট বলেই ধারণা পাওয়া কঠিন; উইকেট আসলে কেমন হবে! এই ভেন্যুতে প্রথমবার আসা রোডসের জন্য চিত্রটা ধরা তো আরও কঠিন।

মিরপুরে খেলা হলে হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে স্পিনেই ঝুঁকে থাকে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে মেলে রানের বন্যা। সিলেটে কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে, বৃহস্পতিবার সে ধারণাই দিয়েছিলেন রোডস। আশার কথায় শুনিয়েছিলেন যে, স্পিনশক্তি রেখেই পেস বোলারদেরও জ্বলে ওঠা দেখবেন ২২ গজে।

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ

তবে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ একাদশ নিয়ে যে আভাস দিয়েছেন তাতে পেসারদের উচ্ছ্বসিত থাকার সুযোগ কমে গেছে, ‘আজ সকালে উইকেট দেখেছি। আগামীকাল সকালেও দেখব। কিছুটা শুষ্ক আছে এই মুহূর্তে। মাঝে কিছু ঘাস রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা খুব একটা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। আমরা দুই পেসার, দুই স্পিনার বা তিন স্পিনার ও এক পেসার নিয়েও খেলতে পারি। এখনও নিশ্চিত না, কাল উইকেট দেখে নিশ্চিত হবো।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ভাবনায় ‘এক পেসার’ থাকতে পারে এমনটি সবার কাছে অভাবিতই ছিল। হতে পারে উইকেট সম্পর্কে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ধারণা না পাক, সেই কৌশলগত কারণেই এক পেসারের কথা বলেছেন মাহমুদউল্লাহ, তেমন হলেই অবশ্য খুশি হবেন পেসাররা।

বছরের শুরুতে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে এক পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। তখনও ভারপ্রাপ্ত হয়েই সাকিবের জায়গায় অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেই ম্যাচে ছুটেছিল রানবন্যা। ম্যাচের পঞ্চম দিনেও ভাঙেনি উইকেট। বোলাররা পাননি কোনো সুবিধাও। যে কারণে ডিমেরিট পয়েন্টও জুটেছিল সাগরিকার ভেন্যুটির।

ঘুরে দাঁড়াতে চায় জিম্বাবুয়ে

সিরিজের প্রথম টেস্টের ভেন্যুর উইকেট নিয়ে নানা মত পাওয়া গেছে গত কয়েকদিনে। ওপেনার ইমরুলের কাছে মনে হচ্ছে বাউন্স থাকবে। রান পাবেন ব্যাটসম্যানরা। অফস্পিনার মিরাজ বলেছেন, থাকবে টার্ন। নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের আশা, টেস্ট জয়ে থাকবে টাইগার স্পিন-পেসের সমান দাপট। ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে চার মূল পেসার ও একজন পেস-অলরাউন্ডার থাকায় তার এমনটি চাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

সিলেট ভেন্যুর কিউরেটরের দায়িত্বে আছেন সঞ্জিব আগরেওয়াল। এই ভারতীয় দুইমাস ধরে দেখভাল করছেন লাক্কাতুরার স্টেডিয়ামটি। দেশের নিয়মিত দুই টেস্ট ভেন্যু মিরপুর ও চট্টগ্রাম ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়ে হুমকিতে থাকায় সিলেট স্টেডিয়াম ঘিরে চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল!

স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য, সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যবস্থা সে সম্ভাবনার পালে দিচ্ছে হাওয়া। তবে নিয়মিত টেস্ট ভেন্যু হতে আসল পরীক্ষা উইকেটের। এখানকার আবহাওয়ায় স্বাগতিক দল ২২ গজে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী কতটা সুবিধা পায় সেটি দেখার উপর নির্ভর করবে অনেককিছুই!

Bellow Post-Green View