চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইয়াসিনের গোলে ভারতের বিপক্ষে পয়েন্ট তুলল বাংলাদেশ

ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে পড়া বাংলাদেশ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ভারতের বিপক্ষে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শুরুর পর দুই ম্যাচে এখন ৪ পয়েন্ট জামাল ভুঁইয়ার দলের।

সোমবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফের ত্রয়োদশ আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। দলটির বিপক্ষে ১৮ বছরের জয়খরা কাটানো না গেলেও শেষ ছয় ম্যাচে ৪ ড্র তোলা সম্ভব হল।

ভারতকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রি। বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ইয়াসিন আরাফাত।

শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যাচসেরা তপু বর্মণের একমাত্র গোলে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে যাত্রা করে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা।

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৭ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মালদ্বীপ। ১৩ অক্টোবর নেপালের বিপক্ষে লিগপর্বের শেষ ম্যাচে নামবেন জামালরা। রাউন্ড রবিন লিগ শেষে টেবিলের শীর্ষ দুদল লড়বে ১৬ অক্টোবরের ফাইনাল মঞ্চে।

শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা ভারত ম্যাচের ২৬ মিনিটে সুনীল ছেত্রির গোলে লিড নেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ৭৬তম গোল।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে সমতার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মতিন মিয়ার ক্রসে বল পেয়ে বিপলু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

পরের মিনিটে অধিনায়ক জামাল আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। করেছিলেন বাতাসে ভাসানো ক্রস। মতিন ও তারেক ভারতের কড়া মার্কিংয়ের সামনে ভীতি তৈরি করতে পারেননি প্রতিপক্ষের জালমুখে।

৩৫ মিনিটে ভারতের একটি আক্রমণ আটকে যায় বাংলাদেশ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর গ্লাভসে। ৩৭ মিনিটে ছেত্রির দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জিকো।

বিজ্ঞাপন

সেই কর্নারে দুর্বল শট নেয় ভারত। যা থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে বল টেনে ছুট দেয় বাংলাদেশ। ভোঁ-দৌড়ো পৌঁছে যায় প্রতিপক্ষ বক্সে। ওই আক্রমণে সাদ উদ্দিন যে সুযোগটা তৈরি করেছিলেন, তখন পর্যন্ত সেটি ছিল জামালদের সেরা সুযোগ, কিন্তু ফের ব্যর্থ বিপলু। তার শটে দেয়াল হন ভারত গোলরক্ষক।

পিছিয়ে থেকে মধ্যবিরতির পর ফিরে ৪৯ মিনিটে তারিক কাজীর শিশুসুলভ ভুলে বিপজ্জনক জায়গায় বল কেড়ে নিয়েছিলেন ছেত্রি। তারিকই সেই আক্রমণ নষ্ট করে দেন, গোলকিক পায় বাংলাদেশ।

ডান পাশ দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে ৫০ মিনিটে সাদ উদ্দিনের কাটব্যাকে বল পৌঁছে গিয়েছিল আনমার্কড রাকিবের পায়ে। কিন্তু বক্সের মধ্য থেকে বল জাল পর্যন্ত নিতে পারেননি রাকিব।

ম্যাচের ৫৩ মিনিটে লিস্টন বল নিয়ে ছুট দিয়েছিলেন বাংলাদেশ বক্সের দিকে, ডিফেন্স লাইনের সামান্য বাইরে তাকে পেছন থেকে টেনে ফেলে দেন রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ। সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্বনাথকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন রেফারি। ১০ জনের দল হয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

বল পায়ে ৫৭ মিনিটে ভারত বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মতিন। গোল আনতে পারেননি। আটকে যান প্রতিপক্ষ রক্ষণে। ৬০ মিনিটে মুহূর্তের ব্যবধানে দুবার ত্রাতা হন গোলরক্ষক জিকো। সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ভারত।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে তপু ও মতিনের যৌথ প্রযোজনায় গড়া আক্রমণ ভারত বক্সে পৌঁছালেও জাল পর্যন্ত নাগাল পায়নি। খানিক পর ইব্রাহিমকে তুলে সুফিলকে মাঠে পাঠান ব্রুজন।

৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন, বিপলু ও মতিনকে তুলে সুমন রেজা ও সোহেল রানাকে নামান বাংলাদেশ কোচ।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। গোল আনেন ইয়াসিন আরাফাত। অধিনায়ক জামালের নেয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বাজপাখি রাকিবের মাথা ছুঁয়ে যাওয়ার পর আরেক হেডে জালে জড়িয়ে দেন ইয়াসিন।

সমতা টানা গোলের পরপরই রাকিবকে তুলে রহমত মিয়াকে মাঠে নামান ব্রুজন। পরে দুদলই কয়েকটি করে ভালো আক্রমণ গড়েছে, গোলের দেখা পায়নি। এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজরা।

বিজ্ঞাপন