চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইয়াবা কারবারি পিতা-পুত্রের ৪০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারের টেকনাফে তিন ইয়াবা কারবারি পিতা-পুত্রের আলিশান বাড়ীসহ অন্তত ৪০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ায় এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

বিজ্ঞাপন

তিন ইয়াবা কারবারি পিতা-পুত্র হলো: টেকনাফ সদরের নাজির পাড়ার মৃত নজু মিয়ার ছেলে এজাহার মিয়া (৭০) এবং তার ২ ছেলে নুরুল হক ভূট্টো (৩২) ও নুর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী (৩৫)।

পুলিশ জানায়, এদের মধ্যে নুরুল হক ভূট্টোর নাম সরকারের তৈরি সর্বশেষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া নুর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী ২ মাস আগে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে, রাজপ্রাসাদের মত আলিশান ২টি বাড়ি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী এবং ভিটে ও জমি-জমাসহ বিভিন্ন ধরণে স্থাবর-অস্থাবর ৪০ কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ১৫ কোটি টাকার স্থাবর এবং ২৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

ওসি প্রদীপ বলেন, তিন ইয়াবা কারবারি পিতা-পুত্রের বাড়ীসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা বৃহস্পতিবার টেকনাফ থানায় পৌঁছে। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে পুলিশের একটি দল শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টেকনাফের নাজির পাড়ায় অভিযান চালায়। এসময় আলিশান বাড়িগুলোতে অবস্থানকারী লোকজনকে বের করে দিয়ে পুলিশের জিম্মায় নিয়ে আসা হয়। পরে বাড়িগুলোতে থাকা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী এবং ভিটে ও জমি-জমাসহ বিভিন্ন ধরণের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়। জব্দ করা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য আনুমানিক ৪০ কোটি টাকারও বেশি।

ওসি বলেন, জব্দ করা বাড়িগুলো সিলগালা করে পুলিশ পাহারায় রয়েছে। এছাড়া বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীসহ জব্দকৃত অস্থাবর সম্পদগুলো থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় ১ নম্বর আসামি নুরুল হক ভূট্টো এবং ১০ নম্বর আসামি এজাহার মিয়া পলাতক রয়েছে। এছাড়া গত ২০১০ সালে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মানিলন্ডারিং মামলা রয়েছে।

“এসব মামলায় গত ১৪ মে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারিক হাকিম খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ ৩ আসামী পিতা-পুত্রের স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পদের তালিকা এবং আয় ব্যায়ের হিসাব আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তাদের সম্পদের বিবরণী আদালতে উপস্থাপনের পর গত ২৩ মে বিচারিক হাকিম খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ জব্দ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। আদালতের এ নির্দেশনাটি গত বৃহস্পতিবার থানায় এসে পৌঁছে।”

অভিযানে জব্দ করা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বার্ষিক হালনাগাদের হিসাব আদালতে পুলিশ উপস্থাপন করবে বলে জানান ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

Bellow Post-Green View