চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইমরানকে নির্যাতনের অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে

যশোরের কলেজছাত্র ইমরান হোসেনের ওপর ‘পুলিশী নির্যাতনের’ অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালত তার আদেশে, যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার নিচে নন এমন বিচারিক কর্মকর্তাকে দিয়ে এই তদন্ত করতে যশোরের জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

‘পুলিশের নির্যাতনে’ যশোর সদর উপজেলার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র (২৩) ইমরানের কিডনি অকেজো শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেসব প্রতিবেদন যুক্ত করে ইমরানকে নির্যাতনের অভিযোগের বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে ও ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির ও মোহাম্মদ কাউছার ১৮ জুন হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

সেই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট ইমরানের স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন এবং ওই ঘটনায় পুলিশের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী যশোরের পুলিশ সুপার পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সিভিল সার্জন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ইমরানকে মাদকসেবী বলে উল্লেখ করা হয়।’ এরপর আদালত ইমরানের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করতে যশোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ইমরানের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র আজ আদালতে দাখিলের পর আদালত ‘পুলিশী নির্যাতনের’ অভিযোগের বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে নির্দেশ দিলেন।

কলেজছাত্র ইমরানের ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ৩ জুন সন্ধ্যার দিকে ইমরান সলুয়া বাজার এলাকা থেকে তার বাড়ি ফিরছিলেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরেক ছেলে ছিল। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় সাজিয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা তাদের গতিরোধ করেন তার সঙ্গী ছেলেটির ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এ সময় ভয়ে ইমরান দৌঁড় দেন। এরপর পুলিশ তাকে ধাওয়া করে ধরে বেধড়ক মারধর করলে ইমরাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পকেটে গাঁজা দিয়ে আটকের হুমকি দিয়ে ইমরানের বাবার কাছে ফোনে এক পুলিশ সদস্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং পরে ছয় হাজার টাকা দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পান বলে দাবী করেন ইমরান।

অন্যদিকে ‘নির্যাতনের’ ঘটনার পর যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া ইমরানের বিষয় ওই হাসপাতালের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুল কাদির উজ্জ্বল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইমরানের দুটি কিডনির ফাংশন খুবই খারাপ। স্বাভাবিক অবস্থায় কিডনির ক্রিটেনিন এক দশমিক চার থাকার কথা কিন্তু ইমরানের তা ছিল আট দশমিক আট।’

অন্যদিকে ইমরানের সাথে ঘটা বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ৯ জুন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম রব্বানী শেখকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি গত ১৫ জুন পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

আর ওই একই দিন যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুন্সি আনিচুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়।