চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ইন্ডাস্ট্রিতে এসে বুঝলাম ভালো কাজ করলে মানুষ হিংসা করে’

রাজধানীর বুকে প্রতিদিন ঘটে শতশত ঘটনা। কিছু ঘটনা ঘটে থাকে লোক চক্ষুর অন্তরালে। সেই অজানা কয়েকটি ঘটনা তুলে ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করেছেন রায়হান রাফী। নাম ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’।

ওটিটি প্লাটফর্ম আই থিয়েটারে এটি মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার। ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’ বানিয়ে মুন্সিয়ানা দেখানো তরুণ নির্মাতা রাফীর দাবী, টেকনিক্যাল সমস্যা থাকার পরেও তার ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’ প্রচুর মানুষ দেখছেন। দেখে তৃপ্তিও পাচ্ছেন। বলেন, কনটেন্টটি মানুষ পছন্দ করেছেন।

কয়েকটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’ বানিয়েছেন বলে চ্যানেল আই অনলাইকে জানালেন রাফী। যেখানে অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু, মনোজ প্রামাণিক, নাজিফা তুষি, তমা মির্জা, শরাফ আহমেদ জীবন ও খায়রুল বাশার প্রমুখ।

রাফী বলেন, ঢাকার যে রূপ সাধারণ মানুষ আগে দেখেনি, সেই রূপ এসেছে ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’তে। বাস্তবে এই রূপ যারা দেখে তারা সবসময় ফিরে আসেনা। এ রূপ দেখলে মানুষ আরও বেশি সচেতন হতে পারবে।

এর আগে গাজীপুরে ঘটে যাওয়া বর্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিনেম্যাটিক অ্যাপে ‘জানোয়ার’ নামে একটি ওয়েব ফিল্ম বানিয়ে হইচই ফেলেছিলেন রায়হান রাফী। এবার বানালেন ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’। পরিকল্পনা রয়েছে, এটি সিনেমা হলে মুক্তি দেয়ার। রায়হান রাফী মনে করেন, ক্রিয়েশন আশাপাশ থেকেই হয়। চরিত্রগুলো আশপাশ থেকেই বেছে নিতে হয়। তিনি সবসময় তাই করে থাকেন। সিনেমার সংলাপ কোনো না কোনোভাবে অন্যটার সঙ্গে মিলে যায়। কারণ মানুষের জীবন থেকেই সেগুলো নেয়া।

রাফী বলেন, সিনেমা মানে আমার কাছে নতুন নতুন প্রজেক্ট নয়। যেহেতু কাজের মাধ্যমে গল্প বলতে পারি তাই, যে জিনিসগুলো আমাকে নাড়া দেয় সেগুলো কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করি। এর মাধ্যমে আমি প্রতিবাদ জানাই, আমার অনুভূতি শেয়ার করি। আমার সিনেমা বানানোর দর্শন এটা। এই চিন্তা থেকে পোড়ামন ২, দহন, জানোয়ার, দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা বানিয়েছি। এছাড়া পরাণ ও দামাল আরও দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সবগুলোতে আমার দর্শন থাকছে।

বিজ্ঞাপন

সিনেমা হলের জন্য এতোদিন সিনেমা বানাচ্ছিলেন রাফী। কিন্তু করোনা এসে সবকিছু ওলটপালট করে। যুগ এখন ওটিটি’র। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই রাফী নিজেও একের পর এক ওয়েব কনটেন্ট বানাচ্ছেন। তার কথা, আগে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেতাম। এখন অনলাইনে অর্ডার করি। নিউজ-পেপার পড়তাম, এখন অনলাইনে নিউজ পড়ি। সবকিছু অনলাইন নির্ভর হয়ে গেছে।তারপরও মানুষ রেস্টুরেন্টে যাওয়া বন্ধ করেনি, নিউজ পেপার কেনা বন্ধ করেনি। ঠিক এমনভাবে সিনেমা হলও থাকবে।

‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’ অনেক মানুষ দেখছে। সমস্যা ফেইস করার পরেও কনটেন্ট ভালো জেনে দেখার চেষ্টা করছে।  আমার ‘পরাণ’ সিনেমাটি ঈদুল আযহাতে মুক্তি দেয়ার প্ল্যান আছে। সবকিছু নির্ভর করছে করোনার উপর। সময় যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকে যেতে হবে। নতুন যেকোনো প্রযুক্তি এলে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। ওটিটি আমার কাজের জন্য নতুন মাধ্যম। যেহেতু এটা নতুন তাই আমাদের দেশে এখনো সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠেনি। তবে ধীরে ধীরে এই মাধ্যমটি দাঁড়িয়ে যাবে।

সিনেমা মুক্তিতে যেমন সাড়া মিলতো, ওটিটি কনটেন্ট থেকে তেমন সাড়া মেলে? রায়হান রাফী বলেন, জানোয়ারের মাধ্যমে সিনেম্যাটিক অ্যাপ মানুষ চিনেছে। রাশেদ মামুন অপু এখন দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্পী। সিনেমা বা ওয়েব কনটেন্ট মানেই তিনি। জানোয়ারে অভিনয় করার পর তার ক্যারিয়ার ঘুরে গেছে। সে এখন আর ধারাবাহিক নাটক করছে না। ওটিটির জন্য কনটেন্ট যদি না দেখতো তাহলে তার ক্যারিয়ার ঘুরতো না। তুষি, তমা মির্জাসহ অন্যরা ‘ডার্ক সাইড অব ঢাকা’তে ভালো কাজ করায় তাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শুধু আমি একা নই, অন্য শিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এটি খুব ইতিবাচক।

তিনি বলেন, অনেকেই বলছে, রায়হান রাফীর সিনেমাগুলো মুক্তি পায় না। আমার প্রশ্ন, কার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে? সিনেমা হল খোলার পরে মারমার কাটকাট দর্শক হবে এর কোনো গ্যারান্টি নাই। আমি তো একদিনের জন্যও বসে নেই। জানোয়ার বানালাম, দামাল শেষ করলাম, ডার্ক সাইড অব ঢাকা করলাম, চরকির জন্য কাজ করবো, শিগগির নূরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসে বুঝলাম কাজ না করলে মানুষ হাসে, ভালো কাজ করলে মানুষ হিংসা করে। অদ্ভুদ এক ইন্ডাস্ট্রি। দুদিকে শত্রু।

যারা ভালো কাজ করবে তাদের সমালোচনা হবেই। যে আমার সমালোচনা করে সে আমার সঙ্গে সিনেমা মুক্তি দিক। টক্কর হবে কাজে। এমনটাই বলছিলেন আত্মবিশ্বাসী রাফী।

তিনি বলেন, খেলা হবে সিনেমা হলে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কে সেটা বড় কথা নয়। বুঝলাম আজীবন এটা থাকবে। শাকিব ভাইও টানা কাজ করেছেন, তার পিছনে মানুষ লেগেছে। কিছুই করতে পারেনি। তিনি তার মত কাজ করে গেছেন। আমিও চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ার বেশি দিনের নয়। আমার মতো এতো কাজ কে করছেন জানা নেই। সব মাধ্যমে আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন