চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইউক্রেন: পরাবাস্তব ও অতিপ্রাকৃতের জগতে ঘুরে আসুন

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ’র চোখে ইউক্রেনকে বোঝাবে যে বইগুলো

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয়দের শেকড়ের গল্প, মনস্তত্ত্ব আর ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বেড়েছে। দেশটিকে বুঝতে তাদের শিল্প-সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অলিগলিতে ঘোরাঘুরি করছে বিশ্ব। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সেই জানার পথে করেছে আলোকপাত। তুলে ধরেছে ইউক্রেনকে বুঝতে পারা যায় এমনকিছু শিল্প-মতবাদের তালিকা।

লেখক এবং সম্পাদকীয় বিভাগের সংকলনে দ্য টাইমস বুক রিভিউ ইউক্রেনীয় সাহিত্যিকদের যেসব বই ঠাঁই দিয়েছে, তার মধ্যে আছে গল্প-উপন্যাস, আছে তথ্যভিত্তিক সাহিত্য তথা ননফিকশন লেখা।

Reneta June

‘ইওর এ্যাড কুড গো হিয়ার’ বা ‘আপনার বিজ্ঞাপন এখানে যেতে পারে’ এই নামে ২০১৮ সালে একটি ফিকশন লিখেছেন ওকসানা জেবুজস্কো। জীবন পথের চোরাগলিতে উঁকি দেয়া শ্বাসরুদ্ধকর গল্পের বইটিতে তুলে ধরেছেন সাধারণ ইউক্রেনীয়দের ব্যক্তি দুর্ভোগ ও রাজনৈতিক রূঢ় বাস্তবতার কথা। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির মানুষের উপর সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী বই ধরা হয় এটিকে। সবসময়ই মানুষের ভোগান্তি ও অধিকার নিয়ে সোচ্চার ৬১ বর্ষী এই লেখিকা।

বিজ্ঞাপন

‘পরাবাস্তব এবং অতিপ্রাকৃতের জগতে ঘুরে আসুন’- ওকসানার বই সম্পর্কে বোঝাতে এভাবেই বলেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্বসাহিত্য বিভাগের সম্পাদক অ্যালেক্সান্ড্রা আলটার।

‘ওয়ার্ডস ফর ওয়ার: নিউ পোয়েম ফ্রম ইউক্রেন’ তথা ‘যুদ্ধদিনের কথা: ইউক্রেন থেকে নতুন কবিতা’, ওকসানা ম্যাস্কিমচুক ও ম্যাক্স রোসোচিনেস্কির সম্পাদনায় একটি অ্যান্থলজি কবিতা সংকলন, যেখানে যুদ্ধদিনের ক্রিমিয়া ও দনবাসের জীবন সংঘাতের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন ইউক্রেনীয় কবিরা।

‘কেউ লড়াই করেছে সম্মুখ সমরে, অন্যরা পরিবারকে নিতে লড়েছে নিরাপদ স্থানে’ -সম্পাদক অ্যালেক্সান্ড্রার চোখে এমন লড়াকুদের গাথাই উঠে এসেছে কবিতার শব্দজুড়ে।

‘অ্যাবসলুট জিরো’, বলা যায় ‘চারদিকে শূন্যতা’, ৩৬ বর্ষী আর্তেম চেখের আত্মকথামূলক লেখা। ২০১৫ সালে দনবাসে সস্মুখযোদ্ধা ছিলেন। যুদ্ধদিনের কথা লিখে রাখতেন ডায়েরিতে। অভিজ্ঞতার সেই ভয়ানক অধ্যায়গুলো এক মলাটবন্দি করেছেন ২০২০ সালে। ৩৪ বছর বয়সে প্রকাশিত বইটিতে যুদ্ধের কোনো বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে পরিচয় করাননি, পাঠকের সামনে দেননি কোনো নায়কোচিত গাথার বর্ণনা। বলেছেন, যুদ্ধ মানেই বেদনা।

বলা হয় এক সৈনিকের হারানো সময় আর হাহাকারের মর্মস্পর্শী ঐতিহাসিক দলিল ‘অ্যাবসলুট জিরো’, যেখানে পাশাপাশি হেঁটেছে সাধারণ মানুষ এবং সৈনিক জীবনের শূন্যতার গল্প। মুখবন্ধ লিখেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাহিত্য বিভাগের লেখক জৌমানা খাতিব।

‘দ্য গেটস অব ইউরোপ’ বা ‘ইউরোপের প্রবেশদ্বার’, ইউক্রেনের অতীত ও বর্তমান সংকট বুঝতে পুরস্কারজয়ী ইতিহাসবেত্তা শেরহি প্লোখি’র এ বইটির বিকল্প নেই।

ইউক্রেনে দীর্ঘকাল চলা সাম্রাজ্যবাদ, সেই রোমান-অটোমান থেকে হ্যাবসবার্গ হয়ে রাশিয়ান, শাসন করে যাওয়া সকলেই এই ভূমিতে পুঁতে গেছে নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির বীজ। দশম শতাব্দীতে ভাইকিংদের থেকে বর্তমান রাশিয়ান জবরদস্তি, ইউক্রেন যেন ভূ-রাজনীতির খেলার এক চিত্তাকর্ষক এবং বহু-স্তরযুক্ত অলিগলি। স্বাধীনতার লড়াই করতে করতে দেশটির অধিবাসীরাই হারিয়ে ফেলতে বসেছেন নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ক্রমধারা, একেকটা যুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছেন কয়েক শতাব্দী করে। এসবই তুলে এনেছেন শেরহি প্লোখি।