চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় দুই গৃহকর্মী আটক

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসার দুই গৃহকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকরা হলেন: জবেদা খাতুন (২৮) ও আরসোলা (৩২)।

বিজ্ঞাপন

রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম।

তিনি জানান: আটক দু’জনকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এর আগে গত শনিবারও গৃহকর্মী জবেদাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাচেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও যাদের আটক করা হয়েছে তারা হলেন: উপজেলার বানিয়াল পালশা গ্রামের খোকা শেখের ছেলে মো. শাহজাহান শেখ (৩৫), চক বাসুনিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সোহেল রানা (২৯), মামলার প্রধান আসামি আসাদুলের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের সইমুদ্দিনের ছেলে সুলতান (৩২) ও ধীরেন্দ্র নাথের ছেলে শ্যামল চন্দ্র( ৩০)।

বিজ্ঞাপন

এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ওসি ইমাম আবু জাফর। আর মামলার বাদী ইউএনওর বড় ভাই শেখ আরিফ হোসেন।

মামলার প্রধান তিন আসামি হলেন: যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল হক (৩৮), রংমিস্ত্রী নবীরুল ইসলাম (৩৩) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৯)। তাদেরকে ৭ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ছেড়ে দেওয়া বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জাহাংগীর আলমকে আবারো খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় একজন প্রভাবশালী নেতাকেও আটক করা হতে পারে বলে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার রাত ৩টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার উদ্দেশে তারা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আহত বাবা-মেয়েকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় পরে ইউএনও ওয়াহিদাকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়।

বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। তার বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা ভালো।  তবে রংপুরে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওমর আলী ভালো নেই। কমর থেকে তার নিচের অংশ প্রায় অবশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।