চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় বাসার মালী ৬ দিনের রিমান্ডে

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলায় জড়িত থাকার ঘটনায় ইউএনও’র বাসার মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন।

শনিবার বিকেল ৫ টায় আসামী রবিউল ইসলাম ফরাসকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র ওসি ইমাম আবু জাফর। আদালত পর্যালোচনা শেষে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ইউএনও’র বাসার মালি রবিউল ইসলাম ফরাস।
এই হামলায় ব্যবহত হাতুড়ি এবং মই স্বীকারোক্তি মতো উদ্ধারও করা হয়েছে।

রবিউল ইসলাম ফরাসকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণের আগে করা সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ছাড়াও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপিএম এবং পিপিএম ( বার), ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম আবু জাফরসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইউএনও’র ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামী যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল হককে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ এবং সাময়িক বরখাস্ত ঘটনার বিবেচনায় মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে স্বীকারোক্তিতে সে ঘটনার সবকিছু জানায়।

জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রবিউল ইসলাম ফরাস ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে ২০১৯ সালের শেষে অস্থায়ী মালি হিসেবে নিয়োগ পায়।  চারমাস আগে মালি রবিউল ইসলাম ফরাস ইউএনও ওয়াহিদার বাসা থেকে একটি লাগেজ ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার সময় সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা খোয়া যায়। এ ঘটনাটি ইউএনও ওয়াহিদা জেলা প্রশাসককে জানালে জেলা প্রশাসক মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। ফরাসের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে।

২ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা করে হত্যার প্রচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় আহত দু’ জনকেই রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ইউএনও ওয়াহিদাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে নেয়া হয় ঢাকার নিউরোসাইন্স মেডিকেল হাসপাতালে। এর পর জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ সুস্থ হলেও তার কোমরের নিচের অংশ এখনও অবশ রয়েছে।

অন্যদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার প্রত্যাহারকৃত ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামকে পুলিশ লাইনস রাখা হয়েছে। তার স্থলে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, রংপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর মো.আজিম উদ্দিনকে।