চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আহা কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে

‘‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারিপাশে…।’’
সত্যজিৎ রায়ের লেখা, অনুপ ঘোষালের কণ্ঠে বিখ্যাত এই গানের সাথেই যেন আজ হারিয়ে গিয়েছিল দেশের কোটি শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে গেছে এদিন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, খুলে গেছে শিক্ষার্থীদের মনের আনন্দ-খুশির দুয়ারও।

আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা গেছে সেই আনন্দযজ্ঞের নানা আয়োজন। সেখানে ছিল এতগুলো দিন পর আবার প্রিয়প্রাঙ্গনে ফেরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার দৃশ্য। কোথাও দেখা গেছে ফুল দিয়ে, কোথাও আবার করতালিতে কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে তাদেরকে।

সে যেন এক সুবিশাল মিলনমেলা। এই মেলায় এসে কেউ খুঁজে পেয়েছে দেড় বছর আগে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বন্ধু-সহপাঠীকে। প্রিয় শিক্ষককে কাছে পাওয়ার আনন্দ মাতোয়ারা হয়েছে কেউ কেউ। তাদের সাথে তাল মিলিয়েছেন অভিভাবক হয়ে সব সময় পাশে থাকা শিক্ষকরাও।

বিজ্ঞাপন

তবে খুশির এই দৃশ্যের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ছিল অব্যবস্থাপনার প্রকট চিত্র। অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ববিধির কিছুই মানা হয়নি। যদিও সরকার অনেক আগে থেকেই বারবার বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল। তাগিদ দিয়েছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে। কিন্তু তাতেও অনেকের ঘুম ভাঙেনি। অবশ্য এ নিয়ে সরকারকে কড়া অবস্থানে যেতে দেখা গেছে। রাজধানীতে এমন দুটি ঘটনায় একজন অধ্যক্ষসহ দু’জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নিজে।

আমরা জানি, দেশে করোনা সংক্রমণ কমলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সে কারণেই এমন খুশির দিনেও অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন, এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেলে চলার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকলে সামনে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। গত এপ্রিলেই আমরা দেখেছি, দ্রুত কমে যাওয়া ভাইরাসটি আবারও কয়েকগুণ শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছিল।

এ জন্যই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষক ও কর্মচারীকে ভ্যাকসিন দেওয়া। ছিল আরও কিছু গাইডলাইন। কিন্তু আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর আমরা দেখেছি, সেই গাইডলাইন মেনে চলা হয়নি অনেকক্ষেত্রেই। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রীও নিজেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আমরা মনে করি, নিজেদের মঙ্গলের জন্যই সাবধান হতে হবে। যেসব শিশুরা গত দেড় বছর বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে নিদারুণ কষ্ট করেছে, অন্তত তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে আবারও হয়তো ঘরবন্দী সময়ের ফিরতে হবে আমাদেরকে।

বিজ্ঞাপন