চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আল জাজিরার প্রতিবেদন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন, বানোয়াট’ এবং ‘রাজনৈতিক মদতপুষ্ট অপপ্রচার’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার।

গতকাল সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রচার করে আল জাজিরা। এরপরই রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি প্রিন্সিপাল ইনফরমেশন অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু ‘উগ্রপন্থি ও তাদের সহযোগী, যারা যুক্তরাজ্য এবং বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসব করছে’, তাদের এই ‘বেপরোয়া অপপ্রচারকে’ বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করছে।

‘‘এই প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর ছাড়া আর কিছু নয়, যা আসলে চরমপন্থি গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুখ্যাত কিছু ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ রাষ্ট্রের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক নীতির বিরোধিতা করে আসছে।’

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের নৃশংস গণহত্যার কথা এমনকি উল্লেখও করা হয়নি। জামায়াতের অপরাধীরা সে সময় লাখ লাখ বেসামরিক বাঙালিকে হত্যা করে এবং দুই লাখের বেশি নারীকে ধর্ষণ করে। এটা আল জাজিরা এবং তাদের প্রতিবেদনের প্রধান ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যানের রাজনৈতিক পক্ষপাতেরই প্রতিফলন, যে বার্গম্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’

‘‘আল জাজিরার অভিযোগের মূল ‘উৎস’ হলেন একজন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে আল-জাজিরা নিজেই ‘মানসিক রোগী’ বলে দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের অন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগসাজশের ছিটেফোঁটা প্রমাণও নেই। মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ কোনো ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেলের পক্ষে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।

‘আল জাজিরার প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মূল সূত্র একজন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে আল জাজিরাই ‘সাইকোপ্যাথ’ আখ্যায়িত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার সামান্যতম প্রমাণও সেখানে নেই। আর মানসিক ভারসাম্যহীন কারও কথার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেলের জন্য বড় ধরনের দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।’’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জামায়াতে ইসলামীর মদদপুষ্ট কয়েকজন দণ্ডিত পলাতক অপরাধী এবং কুখ্যাত ব্যক্তি তাদের চিরাচরিত ছকে বাংলাদেশবিরোধী এই অপপ্রচার সাজিয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠী এবং সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু উগ্রপন্থী ও তাদের সহযোগীদের করা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট  ‘অপপ্রচারকে’ বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করছে।মূলত জামায়াত ইসলামীর দণ্ডিত বা অপরাধীরা এসব ষড়যন্ত্রে সাহায্য করছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।