চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আরেকটু সিরিয়াস’ হবেন শামসুর?

বিপিএলে দারুণ খেলছেন শামসুর রহমান শুভ। কুমিল্লার ফাইনালে ওঠার পথ সুগম করেছেন কোয়ালিফায়ারে ১৫ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে। পুরো আসরে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে নতুন করে আলোচনায় ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ভিক্টোরিয়ানসদের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মনে করেন, আরেকটু সিরিয়াস হলে শামসুরের সুযোগ আসতে পারে বাংলাদেশ দলে ফেরারও।

২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে সর্বোচ্চ ৪২১ রান করার পর শামসুর সুযোগ পান বাংলাদেশ দলে খেলার। দেড় বছরে তিন ফরম্যাটে ২৫টি ম্যাচ খেলার পর ছিটকে যান। ২০১৪ সালের পর জাতীয় দলের আঙিনায় আর ফিরতে পারেননি। চলতি বিপিএলে শামসুরের প্রাণবন্ত ব্যাটিং দেখে নতুন আশা দেখছেন কুমিল্লার কোচ।

বিপিএলে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করলেও শামসুর দেখিয়েছেন রান তোলায় ধারাবাহিকতা। ফিফটি নেই, তবে ছোট ছোট কার্যকরী সব ইনিংস খেলে রেখেছেন অবদান। ৯ ম্যাচে করেছেন ২১০ রান। তিন ম্যাচেই ছিলেন অপরাজিত। যে কারণে গড়টা ৩৫.০০। স্ট্রাইকরেট চোখে লাগার মতই, ১৩৬.৩৬।

শামসুরের উন্নতি চোখে পড়ছে সবার। অথচ কুমিল্লার কোচ তাকে দলেই নিতে চাননি। তামিম ইকবালের কথায় মন গলে সালাউদ্দিনের। ফাইনালের আগে জানালেন সেই কথা, ‘আসলে বিপিএলে শামসুরকে নিয়ে কাজ করার তেমন সুযোগ হয়নি আমার। সে যে সাফল্যটা পাচ্ছে, সেটা তার নিজের যোগ্যতায় করছে এবং সে সারাবছর অনেক সিরিয়াস ছিল। এর পুরো কৃতিত্ব আমি দেব তামিমকে। তামিমের কারণেই সে এই টিমে। প্রথমে তাকে নিতে চাইনি, কিন্তু তামিম বলেছে সে অনেক প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে, একটা সুযোগ দেন।’

‘এই কারণে শামসুরকে দলে নেয়া। তার সাফল্যের পেছনে আমি মনে করি তারই অবদান বেশি। সে যদি ক্রিকেট নিয়ে আরেকটু সিরিয়াস হয়, এখনও সুযোগ আছে জাতীয় দলে ফেরার। সে ফ্রি-স্ট্রোক খেলতে জানা একজন ব্যাটসম্যান। সবচেয়ে বড় জিনিস সে চাপ নিতে পারে। আমরা যে পজিশনেই খেলিয়েছি, সফল হয়েছে। এমন একজন কার্যকরী খেলোয়াড়, আমি বলব তারই বেশি তাগিদ থাকবে পরবর্তীতে কীভাবে আগাবে, সেটা তার উপরই নির্ভর করছে।’

বিজ্ঞাপন

শামসুর সহজাত ব্যাটিং দিয়ে ফাইনালেও জ্বলে উঠবেন বলে আশা কুমিল্লার অধিনাযক ইমরুল কায়েসের। ফাইনালে ওঠার রাতে কুমিল্লার অধিনায়ক বলেছেন, ‘শামসুরের ব্যাটিংটা আমাদের টিমের জন্য খুব দরকার হচ্ছে এবং কার্যকরী হচ্ছে। একদিন তিনে খেলাচ্ছি, একদিনে চারে, বিভিন্ন জায়গায় ব্যাটিং করাচ্ছি পরিস্থিতি অনুযায়ী। জাতীয় দলে খেলেছে, তার কোয়ালিটি ওরকমই আছে। একবার বিপিএলে অনেক রান (৪২১) করেছে। কোয়ালিটি আছে বলেই রান করতে পারছে। ফাইনালেও বিশ্বাস করি ভালো করবে। শুভর মতো খেলোয়াড় ভালো খেললে ভালো লাগে।’

অথচ বিপিএলের গত আসরে কী বাজে অভিজ্ঞতাটাই না হয়েছিল শামসুরের! পড়তে হয়েছিল লজ্জাজনক এক পরিস্থিতিতে। প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাকে কেউ না নিলেও পরে রংপুর রাইডার্স যোগ করে নেয় স্কোয়াডে। ম্যাচ খেলানো দূরে থাক; আসরের মাঝপথে চট্টগ্রামের মাঠে খেলতে রাইডার্সরা চলে যায় শামসুরকে ঢাকায় রেখেই।

জানানো হয় দলের পরিধি ছোট করায় শামসুর এখন স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার। সেই ঘটনায় মনের কষ্ট চাপা রাখতে পারেননি। শামসুর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিকদের কাছে।

পরে জাতীয় লিগের দল ঢাকা মেট্রোর কোচের কথায় অপমানিত বোধ করে দল থেকেই সরে গিয়েছিলেন শামসুর। তখন তার পারফরম্যান্স, ফিটনেস নিয়ে তোলা হয় নানা প্রশ্ন! তবে বিপিএল শুরুর আগে গত বছরের নভেম্বরে বিসিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে আবারও আলোচনায় আসেন। সাউথ জোনের এ ওপেনার বিসিএলের সবশেষ চার ম্যাচে করেন দুটি সেঞ্চুরি। ৬ ইনিংসের ব্যবধানে দুটিতে করেন ১৫৩ ও ১২১। উন্নতির সেই ছাপটা রেখে যাচ্ছেন দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের মঞ্চ বিপিএলেও।

শেয়ার করুন: