চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ

ইতিহাস গড়া ম্যাচগুলো বুঝি এমনই হয়। যেখানে দেখেশুনে ব্যাট চালালেই হেসেখেলে ম্যাচ জেতা যায়, সেখানে বাংলাদেশের তরুণরা ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন শুরু থেকেই। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই বুঝি এমনটা! এশিয়া কাপ থেকে নিধাস ট্রফি, বড়দের ক্রিকেটে ভারত যেন এক জুজুর নাম। টাইগার তরুণদের কাঁধেও যেন চেপে বসল সেই জুজু। যার জেরে তীরে এসে তরী ডুবল তাদের। ১০৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল হেরে গেল ৫ রানে।

অথচ এই চাপের মধ্যেও ইতিহাস ডাকছিল বাংলাদেশকে। ৭৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়েও দারুণ এক লড়াইয়ে ছেলেদের ক্রিকেটে দেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ এনে দেয়ার দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল টাইগার যুবারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার কাছে গিয়ে স্বপ্ন ভাঙল।

শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসায় ভারতের চেয়েও আতঙ্কে শুরু হয় বাংলাদেশের। কাকতালীয় হলেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিল রেখে দলীয় তিন রানে প্রথম উইকেট হারায় যুবারা। কুড়ির ঘর ধরার আগেই উইকেট পতনের হালি পূরণ হয়ে যায়। ৪০ রানে পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ৫৩ রানে ভারত হারিয়েছিল ৫ উইকেট। বাংলাদেশ সেখানে হারায় ৬ উইকেট।

বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের একজনও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তানজীদ হাসান ফেরেন খাতা খোলার আগে। এরপর তার পথ ধরেন পারভেজ হাসান ইমন (৫), মাহমুদুল হাসান জয় (১), তৌহিদ হৃদয় (০) এবং শাহাদাত হোসেন (৩)।

অন্যদের আসা-যাওয়ার মধ্যে একা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন আকবর আলি। সাত রান করে শামীম হোসেন ফিরে গেলে আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন অধিনায়ক আলি। চরম বিপদের মধ্যেও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর সঙ্গে ২৭ রানে জুটি গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন আকবর। কিন্তু বৃষ্টির বিরতির পরই আউট হয়ে যান তিনি। মূল্যবান ২৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

অধিনায়ক ফেরার পর ক্রিজে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীও। অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে তিনি ফেরেন ২১ রানে। মৃত্যুঞ্জয় ফিরতেই ‘মৃত্যু’ ঘটে বাংলাদেশের স্বপ্নের। তারপরও আশা জাগিয়েছিলেন রাকিবুল হাসান ও তানজীব হাসান সাকিব। ৬৮ বল মোকাবেলা করে জুটিতে তুলেছিলেন ২৩ রান। অনেক কাছে গিয়েও প্রথমবারের মতো এশিয়া সেরা হওয়া হয়নি তাদের। স্কোরবোর্ড সেঞ্চুরি অতিক্রম করার পর এক ওভারেই আউট হয়ে যান সাকিব ও শাহীন আলম।

মাত্র এক মাস আগেও ভারতের এই দলের কাছে ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় কাপে জোর লড়াইয়ের পর হার মেনেছিল টাইগার যুবারা।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান ভারতের স্পিনার অথর্ব অঙ্কোলেকার। তিন উইকেট নেন আকাশ সিং।

এর আগে ভারতকে ১০৬ রানেই অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। টাইগার যুবাদের বোলিং তোপে ৩২.৪ ওভারে কোনো রকমে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে রোহিত-কোহলিদের উত্তরসূরিরা।

৫০ রানের মধ্যেই ভারতীয়দের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে চরম চাপে ফেলে টাইগার যুবারা। দলীয় তিন রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারত। এরপর ছয় ও আট রানের মাথায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর স্কোরবোর্ড হাফসেঞ্চুরি ছুঁতেই আবার জোড়া ধাক্কা খায় ভারত। ৫৩ রানের মাথায় দুই উইকেট তুলে নেন শামীম হোসেন।

তার আগে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও তানজীদ হাসান সাকিব একটি করে উইকেট নেন। ভারতের দুজন ব্যাটসম্যান রানআউট হয়েছেন।

৮৪ রানে নবম উইকেট গেলে একশ’র আগেই প্যাকেট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ভারত। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে ২২ আসায় শেষ পর্যন্ত দলীয় সেঞ্চুরির দেখা পায় ভারতীয়রা।

ভারতের মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেন। সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন করণ লাল। অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল করেন ৩৩। আর রাওয়াতের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ১৮ রানে এবং শামীম হোসেন ৮ রান দিয়ে নেন তিনটি করে উইকেট। তানজীদ হাসান সাকিব ও শাহীন আলম একটি করে উইকেট দখল করেন।

শেয়ার করুন: