চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমার বিজ্ঞাপন, আমার চেতনা

ফেব্রুয়ারি মাসটায় অনুষ্ঠান কিংবা দিবসের অভাব নেই বলে জানি। সবচেয়ে বড় দিবসটা ২১ ফেব্রুয়ারি। শুধু অক্ষর কিংবা বলার অধিকার পাইনি আমরা, পেয়েছি নতুন সংস্কৃতির এক অনন্য জাতিসত্তা। ২১ ফেব্রুয়ারির জন্য চ্যানেলে চ্যানেলে আসবে নতুন লোগো, আসবে অনুষ্ঠান, সংবাদ কিংবা বিজ্ঞাপন।

চেতনা তখনই থাকে যখন সেটা মানুষ বুঝতে পারে। আর বুঝতে পারার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করলেই হবে না, চেতনা ছড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যম থেকে আমরা নিয়ত শিখছি অনেক কিছু। শিখছি নানা অনুষ্ঠান কিংবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। বর্ণবাদ কিংবা সেক্সিজমকে প্রমোট করে বলে বিজ্ঞাপনের যে দুর্নাম ছিলো তা পুরোপুরি না গেলেও কিছুটা উন্নত হয়েছি আমরা তা বলতে দ্বিধা নাই।

একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় সাইনবোর্ডের লেখা নিয়ে দারুণ একটা প্রতিবেদন পড়লাম। সাইনবোর্ডের ভাষার মতো বিজ্ঞাপনের ভাষাটাও পরিশীলিত হওয়া দরকার।

অতি সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রুটফিল নামক মাউথ ফ্রেশনারের বিজ্ঞাপন দেখলাম। প্রিন্ট বিজ্ঞাপন। ট্যাগলাইন ছিলো একটু চাপ দাও আসল মজা নাও। পরের লাইনে ছিলো একটু চাপ দিলেই বেরিয়ে আসবে রসালো ফলের দুরন্ত স্বাদ।

বিজ্ঞাপন

ছবি কিংবা ভাষা দুটো কি কোন অংশে আপত্তিকর নয়? নির্মাতা কিংবা কপিরাইটার কি আরেকটু ভাবতে পারতেন না?

এর আগে প্রাণের বাবলগাম অ্যাটমের ভাষা ছিলো অ্যাটম খাও, চাপার জোর বাড়াও। বুঝতে পারি বিজ্ঞাপনকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে অবশ্যই সসি ও ক্যাচি শব্দ ব্যবহার করতে হবে। তবে এটা কিভাবে ভুলে যাই আমার দর্শক তো একটা বাচ্চা থেকে বুড়ো পর্যন্ত। অনেকেই ভাবে মানুষ তো বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল কম দেখে। কিন্তু এর পক্ষে তথ্য প্রমাণ কম উপস্থাপন করতে পারবে। অনেক বাচ্চা আছে যাদের খাওয়াতে হয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে। বাচ্চাটাকে যদি বোঝায় চাপা দিয়ে পৃথিবীর সব অর্জন করা যায় তাহলে সে তো তাই শিখবে। অ্যাটমের বিজ্ঞাপনে মিথ্যা কথা বলার
অনুপ্রেরণাও দেয়া হয়।

মনে পড়লো আরেকটা বিজ্ঞাপনের কথা ঝাঁকির ফল ফুর্তির হয়। এ পর্যন্ত না হয় ঠিক ছিলো। কিন্তু পাশে মডেলের যে ছবি ছিলো তা দিয়ে ডুয়েল মিনিং আমরা দর্শকরা নই, বরং নির্মাতাই তৈরি করে দিয়েছিলেন।

যেই মাধ্যমটা নিয়ে আমরা পারতপক্ষে একটু কম কথা বলি তা হলো এফএম রেডিও। প্রোডাক্টের নাম মনে নেই, সম্ভবত আলপিনলিবে নামের চকলেট। সেটাতে দূর থেকে এক নারীকে দেখে তার গঠনগাঠন নিয়ে আলোচনা করছে দুই বন্ধু। কাছে গিয়ে কথা বলতেই দেখা যায় মেয়েটা ঢাকাইয়া। যেখানে ঢাকাইয়া ভাষাকে মোটামুটি ‘খ্যাত’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনের কিছু নীতিমালা আছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের নীতিমালা ততটা স্পষ্ট না হলেও যারা বিজ্ঞাপন বানায় কিংবা যারা প্রচার করে তাদের ভাষার দিক থেকে একটু সচেতনতা আমজনতা হিসেবে আমরা আশা করতেই পারি। গণের মাধ্যম বা গণমাধ্যমটা সবার। কাউকে ছোট করে, কোন ধরণের রসালো কথাবার্তা দিয়ে পণ্য জনপ্রিয় না করে যদি আমরা ভালো কিছু প্রমোট করতে চাই, তা বোধহয় খারাপ হয় না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Bellow Post-Green View