চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আফ্রিদির মাঝে সম্ভাবনা দেখছেন মাশরাফী

শেষের দুটি ডেলিভারিতে ‍মুগ্ধতা

রংপুর রাইডার্সের নেটে বল করা ছিল যার কাজ, সে-ই কিনা খেলে ফেললেন বিপিএলের ম্যাচ! মিরপুরে হাজারও দর্শকের সামনে বোলিং করলেন ২.৩ ওভার। অভিষেকে ৮ রান খরচ করে নামের পাশে লেখালেন এক উইকেট। পারফরম্যান্স আহামরি না হলেও চট্টগ্রামের কিশোর মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি বড় মঞ্চে প্রথমবার এসেই ফেলতে পেরেছেন প্রতিভার ছাপ। অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ১৭ বছরের এ তরুণ লেগস্পিনারকে নিয়ে দেখতে শুরু করছেন বড় স্বপ্ন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে আফ্রিদি প্রথম স্পেলে করেন ২ ওভার। দেন ৮ রান। তৃতীয় ওভার করতে আসেন কুমিল্লার ইনিংসের শেষদিকে। তৃতীয় বলে গুগলিতে সঞ্জিত সাহাকে করেন এলবিডব্লিউ। অভিষেক ম্যাচে এ লেগস্পিনার কোটা পূরণের সুযোগ পাননি কুমিল্লার শেষ উইকেটটি নিজেই তুলে নেয়ায়।

তবে আফ্রিদির শেষ দুটি ডেলিভারি মুগ্ধ করেছে মাশরাফীকে। চেহারায় কৈশরের ছাপ থাকলেও বল হাতে বিপিএলের মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী এক বোলারকেই দেখেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলানোর উপযোগী একজন লেগস্পিনার অনেকদিন ধরেই খুঁজছে বাংলাদেশ। হয়ত সে শূন্যস্থান পূরণ করবে আফ্রিদির মতো কেউ এসেই। তবে প্রতিভাকে সেই পথে সঠিকভাবে গড়ে তোলার তাগিদ দিলেন মাশরাফী।

‘আমরা সবাই লেগস্পিনার খুঁজছিলাম। আমিও খুঁজছি। ওকে (আফ্রিদি) পাওয়ার পর অনুশীলনে দেখেছিলাম। আমাদের দলে একটা জায়গা ফাঁকা ছিল, তখন আমি রেখে দিয়েছি। খেলানোর সুযোগ পাচ্ছিলাম না, আজ খেলিয়েছি। প্রথম তো, একেবারে বাচ্চা ছেলে, ১৭-১৮ বছর বয়স। আমার কাছে মনে হয় যেভাবে ও বোলিং করেছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় স্পেলে এসে দারুণ দুইটা বল করেছে, দেখে মনে হয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

বিজ্ঞাপন

‘প্রথমদিকে কিছু হাফ ভলি, ফুল টস দিয়েছে। পরে যেই দুইটা বল করেছে সেটা জায়গামত ছিল। এদেরকে আসলে একটু সাহস বা গাইডেন্স দিলে, আমাদের যে দুর্বল জায়গাটা আছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগস্পিনারের ক্ষেত্রে, এমনকিছু পেলে যদি পেছন থেকে সহায়তা করা যায়, তাহলে হয়তো আমাদের জন্য ভালো হবে।’

চট্টগ্রামের ছেলে আফ্রিদি বিপিএলের সিলেট পর্বে রংপুর রাইডার্সের নেটে এসেছিলেন বোলিং করতে। বড় বড় ব্যাটসম্যানের সামনে নিজেকে ঝালাই করার প্রয়াস নিয়ে আসা এ তরুণ পরে হয়ে যান স্কোয়াডের একজন। নেটে হেড কোচ টম মুডি, বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিকের মুখে আফ্রিদির প্রশংসা শুনে দেরি না করে দলেও অন্তর্ভুক্ত করে নেয় রাইডার্স কর্তৃপক্ষ।

বিপিএলে হুট করে চলে এলেও আফ্রিদিকে বিসিবি চোখে চোখে রেখেছে আগে থেকেই। চট্টগ্রামের একটি একাডেমিতে অনুশীলন করে যাওয়া এ তরুণকে গত বছরের ৩১ অক্টোবর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। বৃষ্টি-বিঘ্নিত সেই ম্যাচে ৩ ওভার বোলিং করে ১১ রানে নেন এক উইকেট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে গুগলিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পিটার মুরকে।

রাইডার্স ম্যানেজমেন্ট আফ্রিদিকে দলে নেয় শুধু নেটের বোলিং দেখেই। আগে-পরে কোনো তথ্য ছিল না তার সম্পর্কে। সিলেট পর্ব থেকেই থেকেছেন দলের সঙ্গে। অনুশীলনে করেছেন অসংখ্য বল। প্রস্তুত হয়েই নামা বড় মঞ্চে।

কুমিল্লার ইনিংসে শেষ পেরেকটি ঠুকে আফ্রিদি মাঠ ছেড়ে বের হন সবার শেষে। বাউন্ডারি সীমানার পাশেই আফ্রিদিকে বরণের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মুডি ও রফিক। দুই কোচের প্রশংসাবাক্য শুনে, হাত মিলিয়ে হাসিমুখে ড্রেসিংরুমে ফেরেন পরে। এমন একটি দিনের অপেক্ষাতেই যে ছিলেন সম্ভাবনাময় এ তরুণ।

বিজ্ঞাপন