চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আপিল শুনানিতে জানা গেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী বেঁচে নেই

স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর জেল আপিল শুনানির সময় জানা গেল তিনি আর বেঁচে নেই।

গত বছরের ২৯ আগষ্ট এই ব্যক্তি মারা যাওয়ায় তার জেল আপিলটি বাতিল (অ্যাবেট) করে আজ ডিসমিস আদেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চ। ঘটনাবহুল এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাতে মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম এবং দুই মেয়ে জবা (১২) ও শোভা (৮) খুন হয়। এছাড়া সাড়ে চার বছরের আরেক মেয়ে সুমী মারাত্মক আহত হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর জবান আলী ওই বছরের ২৮ এপ্রিল ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সে মামলায় তার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, আকবর, নেওয়াজ, মোজাম্মেল, মালেকসহ কজনকে আসামি করা হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শে জবান আলীকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ তোলা হয় যে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জবান আলী নিজেই তার স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ জবান আলীর করা মামলাটির আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। অপরদিকে পুলিশ বাদী হয়ে জবান আলীর বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা করে। এই মামলায় পুলিশ পরে জবান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার শেষে নীলফামারীর আদালত জবান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে হাইকোর্ট সে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করে কারাবন্দী জনাব আলী। গত মঙ্গলবার সে জেল আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাসিনা আক্তার আসামি পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ত্রুটি এবং নিম্ন আদালতে বিচারকালে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দুর্বলতা তুলে ধরেন। তখন আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কোন পক্ষে বলা শুরু করলেন! আপনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তা কি ভুলে গেছেন? জবাবে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর বলেছেন, আমি রাষ্ট্রের আইনজীবী। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরাই আমার দায়িত্ব। আমার বিবেক তাড়া করছে। দুই পক্ষেই আমাকে বলতে হবে। ওইদিন একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবের হয়ত বিবেকে বাধছে। তাই আমি নিজেই মামলাটিতে শুনানি করতে চাই। এ জন্য সময় দরকার। এরপর আদালত শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী গতকাল শুনানি শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য উপস্থাপন করে আদালতকে জানান যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলী অসুস্থ হয়ে গেলে
কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ২৯ আগষ্ট জবান আলী মারা যায়। তার ছেলে লাশ গ্রহণ করে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের থেকে জবান আলীর মৃত্যুর এই তথ্য জেনে সুপ্রিম কোর্টে আসা এসংক্রান্ত নথী দেখার জন্য আপিল বিভাগ বিষয়টি নট-টু-ডে রাখেন। এরপর আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চ মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জেল আপিলটি বাতিল (অ্যাবেট) করেব ডিসমিস আদেশ দেন। এসময় আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।