চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আপিল বিচারাধীন থাকলে দণ্ড স্থগিতের বিধান নেই: হাইকোর্ট

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের দণ্ড স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে আদালত বলেছেন: উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিতের বিধান নেই। তবে চাইলে আবেদনকারী আপিল বিভাগে যেতে পারেন। আপিল বিভাগ এ ব্যাপারে একটা নীতিমালা সেটেল করে দিতে পারেন; যা পরবর্তীতে হাইকোর্ট অনুসরণ করতে পারে।

ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম নিজের পক্ষে শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।

এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বলেন: যদি আজকে তার সাজাটা স্থগিত হত তাহলে রাজনৈতিকভাবে যারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আছে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারত। আজকের আদেশের ফলে তাদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকছে না।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন: ফৌজদারি কার্যবিধির এমন কোনো সেকশন নেই যেটা অনুসরণ করে সাজাটা স্থগিত করা যায়। যে কারণে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে তার আবেদন খারিজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ফাঁসের মামলার রায়ে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলামকে ১০ বছর এবং ম্যানেজার মাহবুবুল হাসান, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের জুনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী ফারুক আহমেদ ও নয়ন আলীকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম।

এছাড়া ওই রায়ে ব্যারিস্টার ফখরুলকে দশ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস এবং অন্য চারজনকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে খালাস দেন আদালত।

এরপর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এদিকে তার আপিল বিচারাধীন ছিল। সে অবস্থায় তিনি দণ্ড স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। সেই আবেদন সোমবার খারিজ করে দিলেন আদালত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

তবে রায় ঘোষণার আগেই সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তারা ‘রায়ের খসড়া কপি’ সাংবাদিকদের দেখান এবং স্পাইরাল বাইন্ডিং করা কপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে যান। পরে রায় ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন