চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আপনাদের পুলিশ সামলান’

ন্যায়বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ যদি একের পর এক জমতে থাকে, তাহলে এক স্ফুলিঙ্গই সেই বারুদে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সাবেক সংবাদিক এবং ব্লগার আরিফ জেবতিক। তাই পুলিশকে এখনই সামলানোর পরামর্শ তার। মিরপুরে পুলিশের আঘাতে চুলার আগুনে পড়ে বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর কথা বলেন।

সতর্ক বার্তা দিয়ে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন: ”২৬ বছর বয়সী মোহামেদ বোয়াজিজি ছিলেন মফস্বল শহরের রাস্তার ধারের এক গরিব সবজিওয়ালা। এক মহিলা পুলিশ তাঁর সবজির ঝুড়িটি ছিনিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে তাঁর মা-বাপ তুলে গালিও দেয়। এর আগেও পুলিশ তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছিল।

তরুণ বোয়াজিজি ন্যায়বিচার নিতে গেলেন স্থানীয় পৌরসভায়; সেখানে সবাই তাঁকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। ক্ষুব্ধ তরুণ বোয়াজিজি এক ঘণ্টা পর ফিরে গেলেন সেই পৌর অফিসে, দুঃখে অভিমানে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিলেন তিনি।

Advertisement

বোয়াজিজির ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ ঐ ছোট শহরের সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করে তুলল। তারা পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলেন। ব্লগ আর ফেসবুকের পাতায় পাতায় সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। ১৯ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন বোয়াজিজি।

কিন্তু তিনি রচনা করে গেলেন এক আগুনমুখো বিদ্রোহের। যার আগুনে পুড়ে ছাই হল প্রেসিডেন্ট বেন আলির মসনদ। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে কোনো শক্তি প্রয়োগ বাদ রাখেননি প্রেসিডেন্ট, কিন্তু সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের স্রোতে সব নির্যাতনই তু্চ্ছ হয়ে গেল, কচুরিপানার মতো ভেসে গেল তার ১৩ বছরের শক্ত শাসন।

মিশর আর তিউনিশিয়ার এই ঘটনাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আপাতদৃষ্টিতে দলহীন-গোত্রহীন, একেবারেই সাদামাটা সাধারণ মানুষের শক্তি অস্বীকার করার উপায় নেই। এরা বিচ্ছিন্ন, দুর্বল, ভীত-সন্ত্রস্ত, কিন্তু এদের বুকের ভেতরও আছে রাগ-ক্ষোভ-অভিমান। ন্যায়বিচার না পাওয়ার সেই ক্ষোভ যদি একের পর এক জমতে থাকে, তাহলে এক স্ফুলিঙ্গই সেই বারুদে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।”…….আপনাদের পুলিশ সামলান।

বাবুল মাতুব্বরের পোড়া লাশের গন্ধে আমাদের কিন্তু ঘুম আসে না।