চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আদালত-আইনজীবীর সম্পর্ক অবনতি বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে পত্র

দু-একটি আদালতে মামলার শুনানিকালে আইনজীবীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার প্রবণতায় আইনজীবী ও বিচারকদের (বার ও বেঞ্চের) সু-সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে প্রধান বিচারপতি বরাবর পত্র দিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভার পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সাক্ষরিত একটি পত্র আজ প্রধান বিচারপতি বরাবর পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই পত্রে বলা হয়েছে, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। আইনজীবী ও বিচারকের মধ্যে পারস্পপারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলেই শুধুমাত্র আদালত সুষ্ঠুভাবে তার মহান দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের বিজ্ঞ আইনজীবীরা আইন ও আদালতের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেদেরকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেছেন। এই অন্যান্য ভুমিকার জন্য আইনজীবীদেরকে আদালতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়ে থাকে। আদালত সহনশীলতার সাথে তার উপর অর্পিত মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অথচ ইদানিং দুই একটি আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীদেরকে বিভিন্নভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অনাকাঙ্খিত ব্যবহারের জন্য যুগ-যুগ ধরে গড়ে তোলা বার ও বেঞ্চের মধ্যে সু-সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মনে করে।’

প্রধান বিচারপতি বরাবর পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, ‘গত ৮ নভেম্বর ১৩১৪২/২০১৯ নম্বর রিট পিটিশনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুইজন বিজ্ঞ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবং ইশরাত হাসানের বিরুদ্ধে ১০০ টাকা করে জরিমানা এবং আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছে। শুনানিকালে আইনজীবীদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করা হয়েছে। যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা দায়ের কিংবা পরিচালনার কারনে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য কিংবা আদালত অবমাননার রুল জারির ক্ষেত্রে মহামান্য আদালতের কাছে সমিতি আরো সহনশীলতা প্রত্যাশা করে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা যেমন আদালতের মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। তেমনই আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও আদালতের উপর বর্তায়। এ অবস্থায় দেশের আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি না হয়, এবং উভয়ের মধ্যে সু-সম্পর্ক বিনষ্ট যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আপনাকে (প্রধান বিচারপতি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।’