চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত নীতিসহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের জন্য ঘোষিত নীতিসহায়তার মেয়াদ ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এই ঘোষণা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই লকডাউন ছিল। এতে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববাণিজ্য। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন রপ্তানিকারকরা। তাই বিশ্ববাজারে রপ্তানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বেশকিছু নীতিসহায়তা ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে রপ্তানির অর্থ দেশে আনা ও আমদানি দায় পরিশোধের মেয়াদ ৬০ দিন করে বাড়ানো হয়েছে। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় স্বল্পমেয়াদি সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিটের মেয়াদ বাড়ানো হয় ১৮০ দিন। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ৯০ দিন। এসব সুবিধা চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানিকারকদের সহযোগিতা করতে নীতিসহায়তার আওতায় সুযোগ সুবিধা গ্রহণের সময় ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১৯ মার্চের জারি করা নীতিসহায়তায় এর সময়সীমা ছিল চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

১৯ মার্চের ওই নীতিসহায়তায় বলা হয়েছিল, রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য ৪ মাস সময় পান রপ্তানিকারকরা। পণ্য জাহাজীকরণের দিন থেকে এ সময় গণনা শুরু হয়। এখন থেকে রপ্তানিকারকরা অর্থ প্রত্যাবাসনের জন্য ৪ মাসের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৬০ দিন সময় পাবেন। তবে এ ধরনের মেয়াদ বাড়ানোর পর ব্যাংকগুলো তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগে বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়কে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে রপ্তানিকারকের নাম, ইএক্সপি নম্বর, অর্থ পরিশোধের প্রত্যাশিত তারিখ, মেয়াদ বাড়ানোর কারণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে।

রপ্তানি বিল প্রত্যাবাসনের মতো আমদানির ক্ষেত্রেও পণ্য দেশে পৌঁছানো ও মূল্য পরিশোধের জন্য ৪ মাস সময় পান আমদানিকারকরা। এক্ষেত্রেও বিল অব এন্ট্রির দিন থেকে ৪ মাসের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৬০ দিন সময় দেয়া হয়েছিল। রপ্তানির মতোই আমদানিকারকদের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জানাতে হবে।

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় স্বল্পমেয়াদি সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিটের মেয়াদ হলো ১৮০ দিন। বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ মেয়াদ আরও ১৮০ দিন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের ওপর গ্রহণযোগ্য সুদহার আরোপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা ইডিএফ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ হয় ৯০ দিন। এই তহবিল থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের সময় ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিতে পারত। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ১০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিতে পারবে।