চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অ্যান্টিজেনে ‘টেস্ট সংক্রান্ত’ কোনো জটিলতা থাকবে না

অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত যাবে। ফলে গণমানুষ টেস্টে আগ্রহী হবে এবং টেস্ট সংক্রান্ত কোনো জটিলতা আর থাকবে না বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা শনাক্তের জন্য দেশে এতদিন শুধু রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পদ্ধতি থাকলেও গতকাল শনিবার থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তে ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, যশোর, মেহেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর ও সিলেটের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে নিয়ে ভার্চুয়াল পরিসরে এই পরীক্ষা উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে করোনার র‌্যাপিড টেস্ট বিষয়ে খসড়া নীতিমালা অনুমোদন ও অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর সুপারিশ করার প্রায় তিন মাস পর শুরু হলো করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। প্রথম দফায় পিসিআর ল্যাব নেই এমন তৃণমূল দশটি জেলার সদর হাসপাতালে এই পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।

অ্যান্টিজেন কী?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা বা সিডিসি-এর তথ্য মতে, অ্যান্টিজেন টেস্ট মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য ভাইরাস শনাক্তের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই টেস্টের মাধ্যমে বিশেষ ভাইরাল অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যা আসলে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ রয়েছে, তাদেরকে অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হবে। এতে যারা পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদেরকে আইসোলেশনে নেয়া হবে।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) করোনা ল্যাবের ভাইরোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘পিসিআর টেস্টের একটা র‍্যাপিড ভার্সনই হচ্ছে অ্যান্টিজেন, যা কিনা দ্রুততম সময়ে এবং একদম কম খরচে করা যাবে।’

‘‘এটা একটি ইন্সট্যান্ট ভার্সন, পিসিআরে যেখানে একটা নির্ধারিত সময় লাগে এক থেকে দুই ঘণ্টা, প্রসেসিংয়ে আরও দুই ঘণ্টা সেই সময়টা অ্যান্টিজেনে লাগবে না। অ্যান্টিজেন একটা স্ট্রিপের মাধ্যমে টেস্ট করা হয়, যা কিনা প্রেগনেন্সি বা ডায়াবেটিস টেস্টের মতো। প্রসেসিং চার মিনিট এবং রেজাল্ট পাওয়া যাবে মাত্র এক মিনিটে। টোটাল পাঁচ মিনিটে রেজাল্ট।’’

বিজ্ঞাপন

কোন ব্যক্তির যদি অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে নেগেটিভ আসে তাহলে কি তার পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো দরকার নেই। যদি অ্যান্টিজেন কিটের সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতা ভালো থাকে। কিটের সংবেদনশীলতা এতোদিন ভালো আসতেছিল না বলে আমাদের বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

অ্যান্টিজেনের সুবিধা ও অসুবিধা
অ্যান্টিজেনের সুবিধার বিষয়ে ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রামে ও যে অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই, হাতের কাছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই তারা দ্রুত টেস্টের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে। কোভিড পজেটিভ হলে আইসোলেশনে যেতে পারবে। যা কিনা কোভিড সংক্রমণ রোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।

অ্যান্টিজেন টেস্টের অসুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন: অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। পিসিআরে যেমন ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভর করা যায়। এখানে নির্ভর করতে হবে ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ।

তিনি ফলাফল কতোটা নির্ভুল হবে, তা নির্ভর করে এই তিনটি বিষয়ের ওপর- কিটের মান, নমুনার মান এবং সংক্রমণের কোন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ডা. এম এ আজিজ

টেস্ট সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকছে না
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘‘অ্যান্টিজেন কোভিড চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এখানে অল্প সময়ে আমরা টেস্টের রেজাল্ট পাচ্ছি, যে সমস্ত জেলায় আরটি পিসিআর নেই, সেসমস্ত জেলার মানুষের জন্য টেস্ট অনেক সহজ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ইর্মাজেন্সি অপারেশনসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগবে।’’

‘‘আরটি পিসিআর টেস্ট ও অ্যান্টিজেন টেস্ট দুটোই যদি পাশাপাশি চলে এবং যেহেতু অ্যান্টিজেন স্বল্প খরচ, তাই সেটা যদি বেসরকারীভাবেও করা যায় তাহলে কোভিড চিকিৎসায় দ্রুত সফলতার দিকে যাবো এবং টেস্ট সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকবে না।’’

দেশে অ্যান্টিজেন টেস্ট এখন খুব জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘যদি জনাকীর্ন এলাকায় কাউকে সন্দেহ হয়, আমরা তাকে টেস্ট করে যদি পজিটিভ পাই, তাহলে কিন্তু তাকে দ্রুত আইসোলেট করে ফেলা যাবে। তার থেকে রোগ আর অন্যদের ছড়াবে না।’’

অ্যান্টিজেন টেস্টে কতো টাকা লাগছে?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন মাত্র ১০০ টাকায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা যাবে। এই টেস্টটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত। প্রথম অবস্থায় কেবল সেসব স্থানেই এই অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হচ্ছে, যেখানে পিসিআর ল্যাব নেই। তবে খুব দ্রুতই এই টেস্টের স্থান ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, এই টেস্টের সব ব্যবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনেই করা হয়েছে। দশটি জেলার ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।