চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘অশ্লীলতার যুগেও ভালো ছবি দিয়ে হলে দর্শক ধরে রেখেছিলাম’

দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে চিত্রনায়ক রিয়াজ অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। রোমান্টিক, অ্যাকশন, এমনকি গল্পনির্ভর সর্বাধিক ছবির নায়কও তিনি। অনেকদিন ধরেই রূপালী পর্দার আড়ালে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত এই নায়ক। তবে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে (সহ সভাপতি) রয়েছেন তিনি। সিনেমায় অভিনয় না করলেও রিয়াজকে দেখা যায় নাটকে। সম্প্রতি এই নায়ক কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে…

প্রায় ২২ বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ার আপনার। পুরো সময়টা কেমন গেল রিয়াজ ভাই?
‘সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এতগুলো বছর যে কখন কেটে গেল আমি নিজেও টের পাইনি। তবে এক কথায় বলবো খুব ভালো সময় কেটেছে।

বিজ্ঞাপন

নায়ক হিসেবে আপনি সফল। কৃষ্ণপক্ষের পর আপনাকে আর নতুন ছবিতে দেখা যায়নি, কেন?
এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। অভিনয়-সংসার-ব্যবসা নিয়ে তখন খুব ব্যস্ত সময় যাচ্ছিল। একটা সময় গিয়ে মনে হলো একটু বিরতি দেয়া যাক। তাই সরে গিয়েছিলাম। তাছাড়া ছবি নির্মাণের মানটাও কমে যাচ্ছিলো। ভালো গল্প ও চরিত্রের অভাব ছিল। সবকিছু মিলিয়েই নীরব ছিলাম। অনেক অভিযোগ পেয়েছি ভক্ত-অনুরাগীদের কাছ থেকে। কবে ফিরবো, কেন ফিরছি না! নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছি আবারো বড় পর্দার জন্য।

আমার কাছে প্রায় ছবিতে কাজের অফার আসে। কিন্তু যেসব চরিত্র পাই সেগুলো আমার সঙ্গে যায়না। আমি তো এখন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের চরিত্রে কাজ করতে পারি না। এসব কাজ করলে ইমেজ নষ্ট হবে। আমাকে নিয়ে গল্প তৈরি করা হোক, আমি অবশ্যই ছবি করব। চারপাশে অনেক ভালো গল্প রয়েছে সেগুলো নিয়ে ভাবা উচিত।

একটা সময় আপনার ভীষণ চাহিদা ছিল। অশ্লীলতার সময়টাতেও আপনি সুস্থ-সুন্দর ছবিতে কাজ করে গেছেন নিয়মিত। দিনগুলো মিস করেন না?
অতীত সবসময়ই রোমাঞ্চকর। ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং সেসব নিয়ে আফসোস করেও লাভ নেই। অশ্লীলতা দিনগুলোতে সবাই যখন হলবিমুখ হতে লাগলো তখন আমরা কয়েকজন চেষ্টা করেছি ভালো ছবি দিয়ে দর্শকদের হলে রাখতে। শ্বশুড়বাড়ি জিন্দাবাদ, প্রেমের তাজমহল, মোল্লা বাড়ির বউ, মনের মাঝে তুমি, হৃদয়ের কথার মতো চমৎকার ছবি পেয়েছিলো ইন্ড্রাষ্ট্রি। সেসব ছবির জন্য অনেকেই কষ্ট করেছিলেন। তখন সবাই বলতো অশ্লীলতা না থাকলে ছবি চলে না। কিন্তু আমরা এই কথাটিকে মিথ্যে প্রমাণ করেছিলাম। মূলত তখন থেকেই অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনের শুরু বলা যায়।

সাফটা চুক্তিতে দু-দেশের সিনেমা আদান প্রদান হচ্ছে। কীভাবে দেখছেন এই বিষয়টি?
আমরা কলকাতার ছবিগুলোতে যতটা প্রাধান্য দিচ্ছি, তারা কি আমাদের ছবি ওপারে সেভাবে প্রাধান্য দিচ্ছে? দেশীয় ছবির সঙ্গে মুক্তি দিয়ে হল কমিয়ে দেয়া হচ্ছে, ওপারের ছবি বেশি হলে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। আমাদের ছবিগুলো ওপারে কতগুলো হলে মুক্তি পাচ্ছে সেই খোঁজ রাখছি? তারা কি আমাদের ছবিগুলো শতাধিক হলে মুক্তি দিচ্ছে? ওপারে ছবি মুক্তির ফলে আমাদের শিল্পী-নির্মাতারা কী বেনিফিড পাচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তরগুলো আগে জানা দরকার।

নতুন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে শিল্পী সমিতি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। আপনিও সেখানে ছিলেন…
হ্যাঁ। আমরা তাকে (তারানা হালিম) সিনেমা হলে সরকারি মেশিন বসানোর বিষয়টি অবগত করেছি। সেন্সর বোর্ডকে আরো সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের এই বিষয়টি তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিটি জেলায় সিনেপ্লেক্স, ছবি নির্মাণে সরকারি ভর্তুকির কথা বলেছি। আশা করছি, শিগগির আমরা গ্রীন সিগন্যাল পাব।

অনেকেই ছবি নির্মাণের সময় বলছেন- ভিন্ন গল্প, রোমান্টিক গান, ধুন্ধুমার অ্যাকশন সবকিছুতেই নতুনত্ব থাকবে। কিন্তু সিনেমাটি যখন দেখা হয় তখন গল্প-নাচ এবং ছবির শেষে সেই গৎবাঁধা চিত্রই খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কেন?
এ প্রসঙ্গেও আমি বলবো শিক্ষার অভাবই দায়ি। আমাদের এখানে একসময় জহির রায়হান, খান আতাউর রহমান, দিলীপ বিশ্বাস, এহতেশাম, চাষি নজরুল ইসলাম, আলমগীর কুমকুম, মতিন রহমান, হুমায়ূন আহমেদের মতো নির্মাতারা ছবি বানাতেন। এখন সেইসব নামের মতো জ্ঞানী ও দার্শনিক চিত্র পরিচালক কই? ছবি শুধু নির্মাণের বিষয় নয়, এটি একটি বিরাট শিল্প। এতে প্রাণে মনে ধারণ করতে হয়। আজকালকার নির্মাতারা সেটা পারছেন না। তারা শিল্পী নয়, পরিচালক হতে এসেছেন। সম্মান ও অমরত্ব নয়- জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটছেন। সস্তা কাটতি পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। দর্শকদের মিথ্যে বলে ঠকাচ্ছেন। ফলাফলটা কিন্তু চলচ্চিত্র শিল্পকেই ভোগ করতে হচ্ছে। প্রতারিত হয়ে হলবিমুখ হচ্ছে সবাই। এখনও সোহানুর রহমান সোহান, কাজী হায়াতের মতো সিনিয়র যেসকল নির্মাতারা আছেন তাদের এ বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত। নিজেদের মেধা ও জ্ঞান দিয়ে নতুনদের সঠিক পথে নেতৃত্ব দেয়া উচিত। নির্মাতাদের উচিত নিজেদের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। ব্যবসায়িক ফায়দাটা এখানে কম থাকাই সমিচিন।

সর্বশেষ ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ছবিতে দেখা গেছে চিত্রনায়ক রিয়াজকে

নতুন প্রজন্মের অনেকেই আপনাকে আইডল হিসেবে দেখে। বিষয়টি কেমন উপভোগ করেন?
আমাকে যারা আইডল হিসেবে দেখে তাদের বলবো আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। নিজের ভিতর কোন দম্ভ নেই। আর এটা কারো ভিতর থাকা উচিতও নয়। আর যারা আমাকে অনুসরণ করেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কেননা, তাদের দোয়া ও ভালোবাসাতেই আমি আজ চিত্রনায়ক রিয়াজ হতে পেরেছি।

আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে একজন প্রকৃত অভিনেতার যে গুণগুলো না থাকলেই নয়…
একজন প্রকৃত অভিনেতার অহংকার থাকাটা মোটেও উচিৎ না। এছাড়া সততা, সংযম, কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং সময়কে মূল্য দেওয়া এই গুণগুলো থাকা আবশ্যক।

Bellow Post-Green View