চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অভিনেত্রী পার্ণো বিজেপির ‘তোতাপাখি’: কৌশিক

গেল বুধবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন টলিউড অভিনেতা কৌশিক সেন। মোদির কাছে চিঠি দিয়ে হুমকির শিকার হওয়া নিয়ে তারকাদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করছেন। তবে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেয়া অভিনেত্রী পার্ণো মিত্রের করা মন্তব্যে চটেছেন কৌশিক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কৌশিক বলেন, যখন কেউ একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়, তখন সব বিবেক বোধ বিসর্জন দিয়ে সেই দলের তোতাপাখি হয়ে যায়। পার্ণো কি তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন? তিনি কি জানেন যে বিজেপি একটি বিল পাশ করেছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে সন্দেহের ভিত্তিতে যে কাউকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে?

বিজ্ঞাপন

পার্ণো শুধু আমার সহকর্মী নন, তিনি একজন শিল্পী এবং সংবেদনশীল মানুষও। একজন শিল্পী হিসাবে তিনি কীভাবে এমন একটি দলকে সমর্থন করেন যা আদর্শ নিয়ে মাথা ঘামায় না এবং সন্দেহের ভিত্তিতে যে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেয়? খোলা চিঠি লেখার আগে কেন আমাদের আরও ভাবতে বলা হয়েছে তা আমি বুঝতে পারি না। আমাদের চিঠিতে দলিতদের দুর্দশার কথা বলা হয়েছে। পার্ণো কি সেটা দেখছে না?-বলছিলেন কৌশিক।

যেহেতু পার্ণোর সঙ্গে কাজ করেছি, তাই সরাসরি তাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছি। আমি পার্ণোকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে আমি যখন কামদুনি গণধর্ষণের শিকারের বাড়িতে গিয়েছিলাম তখন তিনি কোথায় ছিলেন? আমি কি এখন তাকে জিজ্ঞেস করতে পারি যে আমার ‘সিলেক্টিভ প্রোটেস্ট’ সম্পর্কে বলার সময় তিনি কী ধরনের হোমওয়ার্ক করেছেন? আমি চিঠির বাকী স্বাক্ষরকারীদের পক্ষে কথা বলছি না। তবে আমি অন্য কোথাও প্রতিবাদ জানাই না, পার্ণোর করা এমন অভিযোগ গ্রহণ করবো না।

কৌশিক আরো বলেন, ২০০৭ সাল থেকে বামেরা কিছু ভুল করেছে তখন আমি তাদের সমালোচনা করে আসছি। আমি টিএমসির কোনও পোস্টের জন্য ফাঁসিনি। এমনকি আমার ছেলে ঋদ্ধি সেন ২০১৫ সালে মহানায়ক উত্তম কুমার পুরষ্কার নিতে অস্বীকার করেছে। আমি এবং আমার পরিবার সবসময়েই আওয়াজ তুলেছি এবং তুলবো। সেজন্য অনেক হুমকি পেয়েছি বেনামের ফোন কলে। এই প্রথম মৃত্যুর হুমকি পেলাম। হুমকি দাতা পরিষ্কার ভাবে বলেছে, ‘হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে দেখতে পাও না? বেশি বাড়াবাড়ি করলে জানে মেরে দিবো।’ পুলিশকে জানিয়েছি। কয়েকজন নেতা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পা রাখতে দিবেন না। দেখা যাক কি হয়।

আমরণ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাবেন, এমনটা জানিয়ে এই অভিনেতা আরো বলেন: আমি বলতে চাই যে এই বিষয়গুলো আমার লাইফ স্টাইল বদলে দিবে না। আমি নিরাপত্তা চাইবো না। আমার স্ত্রী এবং ছেলেও সাক্ষর দিয়েছে। তাদেরও সবাই চিনে। কত মানুষ নিরাপত্তা চাইবে পুলিশের কাছে? আমরা যখনই প্রয়োজন মনে করেছি প্রশ্ন তুলেছি এবং তুলবো। কোনো কিছুই থামিয়ে রাখতে পারবে না আমাদের।

অভিনেতা কৌশিক সেনের পাওয়া হুমকি প্রসঙ্গে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেয়া টলি অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র বলেছেন, হুমকি দাতাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে তিনি আরও বলেছেন, নির্যাতনের জন্য কোনো এলাকা বা দলকে দোষারোপ করা উচিত হবে না। কাউকে দোষ দেয়ার আগে ভালো করে সব জেনে নেয়া উচিত। পুরো ভারতে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিজেপির কর্মীদের গাছের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। শিক্ষকরা অনশন করছেন। এসব নিয়ে কেন চিঠি দেয়া হচ্ছে না?

প্রসঙ্গত, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি না দিলেই অত্যাচারিত হচ্ছে পশ্চিম বঙ্গের মানুষ। তারই প্রতিবাদে সরব ভূমিকা পালন করছেন পশ্চিম বঙ্গের শিল্প সাহিত্য ও অভিনয়ের জগতের বেশকিছু গুণী মানুষ। এই অনাচার বন্ধে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি দেন অভিনেতা কৌশিক সেনসহ মোট ৪৯ জনের একটি দল। এরপরেই ফোনে হত্যার হুমকি পান কৌশিক।