চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবসরে ‘আফ্রিকার চিতা’

স্কিল আর গতির কারণে তাকে উপাধি দেয়া হয় ‘আফ্রিকার চিতা’ হিসেবে। আইভরি কোস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড় তিনি। কেবল ফুটবল বললেও কম বলা হয়, দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসেই কিংবদন্তি। যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে, তিনি দিদিয়ে দ্রগবা। ২০ বছরের ফুবটল ক্যারিয়ার শেষে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৪০ বছরের ‘আফ্রিকার চিতা’।

আইভোরি কোস্টের জার্সি গায়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছিলেন প্রায় চারবছর আগে। দেশের জার্সি গায়ে ১০৪ ম্যাচে সর্বাধিক ৬৩ গোলের মালিক এরপরও চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্লাব স্তরের ফুটবল। এবার পাকাপাকিভাবে ফুটবলকে বিদায় জানালানে চেলসির সাবেক সেন্টার ফরোয়ার্ড। ব্লুজদের হয়ে চার-চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ী দলের সদস্য দিদিয়ের দ্রগবা।

২০ বছরের দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে খেলেছেন অনেক ক্লাবেই। কিন্তু দ্রগবার উপস্থিতি আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল চেলসির আক্রমণভাগে। শুধু প্রিমিয়ার লিগ খেতাবই নয়, ২০১২ চেলসিকে প্রথম এবং একমাত্র ইউরোপ সেরা করার পেছনেও দ্রগবার অবদান ছিল অপরিসীম। ক্লাব ফুটবলে দুটি স্পেলে ২৫৪টি ম্যাচে ব্লুজ জার্সি গায়ে মাঠে মাতিয়েছেন এই আইভোরি কোস্ট তারকা। ১০৪ গোল করে চেলসির সর্বকালের চতুর্থ সর্বাধিক গোলদাতা তিনি। সব ক্লাব মিলিয়ে সর্বমোট ৩৮১ ম্যাচে দ্রগবার নামের পাশে লেখা রয়েছে ১৬৪ গোল।

১৯৯৮ ফরাসি ক্লাব লে মান্সের হয়ে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক হয় এই তারকা ফুটবলারের। তবে ক্লাব ফুটবলের টপ টিয়ারে তার আবির্ভাব বছর চারেক বাদে ফরাসি ক্লাব দল গুইনগাম্পের হয়ে। এরপর ২০০৩ মার্সেইয়ের হয়ে খেলার পরের বছর চেলসির হয়ে ইংলিশ ফুটবলে পথ চলা শুরু করেন। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের ক্লাবে আক্রমণভাগে তুরুপের তাস হয়ে ওঠেন আফ্রিকার দু’বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।

বিজ্ঞাপন

প্রথম মৌসুমে হোসে মরিনহোর প্রশিক্ষণে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর চেলসিকে বহুপ্রতীক্ষিত প্রিমিয়ার লিগের স্বাদ এনে দেন দ্রগবা। তার দীর্ঘ আট বছরের প্রথম স্পেলে আরও দু’বার প্রিমিয়ার লিগ মুকুট ওঠে চেলসির মাথায়। এমনকি ২০১২ সালে চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের গোলটিও আসে এই তারকা ফুটবলারের পা থেকেই।

পরের দুই মৌসুমে চীনের সাংহাই শেনহুয়া এবং তুরস্কের গ্যালাতাসারের হয়ে খেলেন দ্রগবা। ২০০৬ এবং ২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা দ্রগবা ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন চেলসিতে। ফিরেই পুরনো ক্লাবকে চতুর্থবারের জন্য ইংল্যান্ড সেরা করেন ।যদিও পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে তার দ্বিতীয় ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পরের মৌসুমে কানাডার একটি ক্লাব এবং ২০১৭-১৮তে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব ফোনিক্স রাইজিংয়ের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। বুধবার সেই ক্লাব থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা ঘোষণা করেন আইভোরি কোস্টের সর্বকালের সর্বাধিক গোলদাতা।

বিদায়বেলায় দ্রগবা জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ার আমাকে এতকিছু দিয়েছে যে, তার কিছুটা ফুটবলের স্বার্থেই পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিতে চাই। সেটাই হবে ফুটবলকে যথার্থ সম্মান জানানোর সেরা উপায়।’

ফুটবলের তারকাখ্যাতি কাজে লাগিয়ে একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে তুলেছিলেন দ্রগবা।বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, জাতিসংঘের আহ্বান, অনুরোধ যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন গৃহযুদ্ধ থামিয়ে শান্তির পথে দেশটিকে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তার আহ্বানেই মুখোমুখি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী অস্ত্র ফেলে দিয়ে মেতেছিল ফুটবলের আনন্দে।

বিজ্ঞাপন