চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবশেষে ফ্রান্সে জ্বালানি তেলের নতুন কর বাতিল

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও নতুন করারোপের প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের মুখে অবশেষে আগামী বছরের বাজেট থেকে আরেক দফা কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে দেশটির সরকার।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপে বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন। এর একদিন আগেই অবশ্য তিনি বলেছিলেন, কর বৃদ্ধি বাতিল না, সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য পেছাতে পারবেন তিনি।

মঙ্গলবার ফিলিপে বলেছিলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আরোপের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের জ্বালানি তেলের ওপর কর বা কার্বন ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি অধিকতর বিবেচনার জন্য ছয় মাস পেছানো হবে।

এছাড়াও চলতি শীতে গ্যাস এবং বিদ্যুতের যে দাম বাড়ার কথা ছিল সেটাও আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমনের আরও কঠোর পরীক্ষাও পেছানো হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী ফিলিপে ডানপন্থি বিরোধী দলীয় নেতা মেরিন লে পেনের সঙ্গে বুধবার এবং তার আগে অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মেয়ার বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করেন।

এরপর রাষ্ট্রপতিসহ সংশ্লিষ্টদের বৈঠক শেষে ২০১৯ সালের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত নতুন করের অংশটি বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ফ্রান্স-জ্বালানি তেল-কর বৃদ্ধি বাতিল-বিক্ষোভ-প্রতিবাদ
প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপে

Advertisement

বুধবার ফিলিপে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বলেন, ‘সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত এবং সেটা বোঝানোর জন্যই জানাচ্ছে যে, ২০১৯ সালের বাজেট বিল থেকে কর বৃদ্ধির বিষয়টি ফেলে দেয়া হয়েছে।’

এই সিদ্ধান্ত ফরাসি সরকারের তার অবস্থান থেকে নরম হয়ে আসার অনেক বড় একটি প্রমাণ। কেননা এ পর্যন্ত নানারকম প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ দাবি করে আসছিলেন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দেশের বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য জ্বালানি তেলের ওপর কর বাড়ানোটা খুবই জরুরি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রথমে শুধু আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদ করা হলেও সময়ের সাথে সাথে অভিযোগের ডালপালা ছড়াতে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি জনগণের আরও সুদূরপ্রসারী ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।ফ্রান্স-জ্বালানি তেল-কর বৃদ্ধি বাতিল-বিক্ষোভ-প্রতিবাদ

প্যারিসের রাজপথে চলমান সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বুধবার পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়।

তবে আন্দোলনকারী কিছু কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে সমালোচিত এবং নিন্দিতও হচ্ছে। বিশেষ করে গত শনিবার আর্ক দ্যু ত্রায়োমফের ঐতিহাসিক ভাস্কর্যগুলো ভাঙার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়েছে।

হাই-ভিজিবিলিটি (স্বল্প আলোতে উজ্জ্বল দেখা যায়) জ্যাকেটের মতোই একটি হলদে-সবুজ জ্যাকেট পরে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে নেমেছে বলে এর নাম হয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ফরাসি আইন অনুসারে যে কোনো যানবাহনে এই পোশাকটি থাকা বাধ্যতামূলক।

শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত আরও কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন বিক্ষোভকারীরা।