চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনলাইন কেনাকাটার আসক্তি কাটিয়ে সুন্দর জীবনে ফেরার গল্প

অনলাইন কেনাকাটায় আসক্ত নিকোলা ও তার পরিবারের গল্প…

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখন মানুষ অনলাইন শপিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে প্রয়োজন নেই এমন বস্তুও কিনে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। তবে যারা সচেতন, তারা অনেকেই এখন নিজেকে নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। আর তা হলো, এক বছর এ ধরনের কেনাকাটা না করার প্রতিজ্ঞা।

যারা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিচ্ছেন তারা হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘নো বাই চ্যালেঞ্জ’, ‘নো স্পেন্ড ইয়ার’ কিংবা ‘নো বাই ২০১৯’ লিখছেন। এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেয়া তেমনই একজন নাগরিক নিকোলা। তিনি জানিয়েছেন ‘নো বাই ২০১৯’ চ্যালেঞ্জে তার অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে।

নিকোলা একজন মিউজিক টিচার এবং ব্লগার। তার ছোট পরিবারে আছেন স্বামী এবং দুই সন্তান আলফি এবং চার্লি। অনলাইনে শপিং এর ভীষণ নেশা ছিল তার। এক ক্লিকেই ঘরের দরজার সামনে জিনিস পৌঁছে যায়, তাই সারাদিন ই-কমার্স শপগুলোতে ঢুকে এটা-সেটা অর্ডার করার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল তার।

সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা নিকোলার। সারাদিন অন্যদের ‘পারফেক্ট’ জীবন, ঘুরে বেড়ানো, বিলাসী জীবনযাত্রার ছবি দেখে দিন কাটতো তার। নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং অনলাইন শপগুলো দেখে দেখে নিকোলার মধ্যে হতাশা তৈরি হতে লাগলো। মানসিক চাপ অনুভব করতে লাগলেন নিকোলা।

বিজ্ঞাপন

অনেক খেলনা, নতুন পোশাক কিনে দেয়ার পরেও তার মনে হতে লাগলো যে অন্যদের সন্তানদের মতো ‘পারফেক্ট’ জীবন তিনি উপহার দিতে পারছেন না নিজের সন্তানদের। কিন্তু একটা সময়ে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। উপলব্ধি করলেন যে কোনো বস্তু নয়, সন্তানরা চায় ভালোবাসা, সময়, আলিঙ্গন, স্নেহ।

নিকোলা ঠিক করলেন এক বছর সন্তানদের জন্য নতুন কোনো খেলনা বা সৌখিন পোশাক কিনবেন না। আধুনিক খেলনা বা গ্যাজেট কিনে দেয়ার বদলে তিনি সন্তানদের সঙ্গে স্মৃতি তৈরি করতে চাইলেন।

প্রতিমাসেই মনে হতো হিসাব ছাড়া সব টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাই কেনাকাটার নেশা কমানোর জন্য নিকোলা টাকার খাম তৈরি করলেন। খাবার, বিল ইত্যাদি জরুরী বিষয়গুলোর জন্য আলাদা আলাদা খামে টাকা রাখলেন। এতে খরচের হিসাব থাকলো। দৈনন্দিন অন্য খরচগুলো লিখে রাখতেন তিনি।

খেলনা বা গ্যাজেট দিয়ে সন্তানদের ব্যস্ত না করে তাদের নিয়ে পার্কে যাওয়া শুরু করলেন নিকোলা। পরিবারকে সময় দিতেন। সন্তানদের সঙ্গে খেলে এবং গল্প করে সময় কাটানো শুরু করলেন। কারণ, বড় হলে খেলনার কথা মনে থাকবে না তাদের। মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিগুলোই থাকবে। আর এসব স্মৃতি তৈরি করতে কোনো অর্থের প্রয়োজন হয়না। -বিবিসি

বিজ্ঞাপন