সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ দিন নয়, বরং পাঁচ দিন কোনো ছাত্র ক্লাসে না আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। নিবিড় পুলিশি তদন্ত ছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম।
তবে জঙ্গি ইস্যুতে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করাকে শত্রুকে সজাগ করে দেয়া বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে সুনাম অর্জনকারী অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি নিয়ে জঙ্গি ইস্যুতে যে চিত্র উঠে আসছে তা জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন, ৪ মাস আগে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্যের দায়িত্ব নেয়া প্রফেসর আতিকুল ইসলাম। পর পর দু’টি জঙ্গি হামলার ঘটনায় বেসরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর জড়িত থাকা এবং শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখোমুখি।
তবে উপাচার্য বললেন, প্রতিষ্ঠানে কোনো উগ্র আদর্শ প্রবেশ করে থাকলে দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়কে এসব থেকে মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘এর আগে যে ব্লগার হত্যার ব্যাপারে আমাদের ছাত্রদের সম্পৃক্ততা ছিল তা আমি জানতাম না। আমাদের যদি কোনো লিস্ট থেকেও থাকে বা কেউ আমাদের এমন কোনো লিস্ট দিয়েও থাকে তা আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারব না। এমনকি লিস্ট আছে কি নেই তাও বলতে পারব না।’
এর কারণ হিসেবে উপাচার্য বলেন, তালিকাটি প্রকাশ হয়ে গেলে দোষীদের মধ্যে প্রথমেই চিন্তা আসবে,
জালটা আমার দিকে টেনে ধরছে। আমি তাহলে এখান থেকে বেরিয়ে যাই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের রিক্রুটমেন্ট সেন্টার হবে না।’
জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। পাঠাগারে জঙ্গি পুস্তুক রাখার দায়ে লাইব্রেরিয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রত্যেকটি ক্লাসে রোলকল করা হবে। সরকারি যে নির্দেশিকা এ ব্যাপারে দেয়া হয়েছে তা শুধু সম্পূর্ণ অনুসরণ করা হবে না, এর চেয়ে বেশি হিসেবে কোনো ছেলে টানা পাঁচটি ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে তার সম্পর্কে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
‘এরপর যদি আমরা সন্দেহ পোষণ করি, তাহলে আমরা ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব না,’ বলেন আতিকুল ইসলাম, ‘১০ দিনও অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যেই আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
শিক্ষকদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘যদি আমি সন্দেহ করি কোনো শিক্ষক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ছাত্রদের মৌলবাদী করার প্ররোচনা যোগাচ্ছেন তবে আমি তাকে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেবো। এক্ষেত্রে আমার জিরো টলারেন্স থাকবে।’
নতুন শিক্ষক নেয়ার সময় বিস্তারিত যাচাই বাছাই করার পর যাদেরকে সঠিক মনে হবে তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান উপাচার্য। অতীতে জঙ্গিবাদের কোনো প্রবণতা থাকলে বা ভবিষ্যতে থাকতে পারে, এমন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে না।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছেন উপাচার্য।








