বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ৩১তম জেদ্দা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯।
জেদ্দা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন হলে হওয়া ৩ দিনের এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেদ্দার চেম্বারের ডেপুটি চেয়ারম্যান খালাফ হোসান আল ওতাইবী। এ সময় বাংলাদেশ, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কনসাল জেনারেল, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার মোহাম্মদ আবুল হাসান ছাড়াও সৌদি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কমকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরব ভিশন ২০৩০ লক্ষ্য পূরণ এবং স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং আমদানীকারকদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজিত হয় এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯।
জেদ্দা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন হলের ৮ হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে চামড়াজাত সামগ্রী, পোশাক, মেশিনারি হস্তশিল্প, ব্যাংক, , ফ্যাশন, প্লাস্টিক, গিফটওয়্যার এবং টেক্সটাইল, নিটওয়্যার খাতের প্রায় ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এই মেলায়। বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই ধরনের মেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের ইকনোমিক মিনিস্টার মোহাম্মদ আবুল হাসান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদক, পরিবেশক, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকদের এক ছাতার নিচে, বিশেষ করে বাংলাদেশের পণ্য বিশ্ববাজারে পরিচিত করিয়ে দিতে অনেকটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় চেম্বারের সদস্য ও সৌদি আরবে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন টেকনটিক্যাল ইনস্টাব্লিশটমেন্ট’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন।
বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়ায় উৎফুল্ল মেলায় অংশ নেয়া উদ্যোক্তারা। এখান থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বাজার ধরা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। মেলায় বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানালেন জুলিয়েট ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী ও চ্যানেল আইয়ের ‘সেরা নারী উদ্যোক্তা’ খেতাব বিজয়ী রাজশাহীর নারী উদ্যোক্তা জুলিয়েট।
সৌদি আরবে বসবাসরত ২২ লক্ষাধিক বাংলাদেশি রেমিটেন্স প্রেরণ এবং দেশে বিনিয়োগে সুযোগের কথা জানাতে সৌদি আরবে এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী, সোস্যাল ইসলামী এবং এক্সিম – এই তিনটি বেসরকারি ব্যাংক।
এই মেলায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে জানান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রম বাজার থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসীদের ২ শতাংশ প্রণোদনার সাথে যারা ইসলামী ব্যাংকের আউটলেটের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন তাদেরকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও ১ শতাংশ, মোট ৩ শতাংশ নগদ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান ইসলামী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।
শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারবেন। অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ লাভ করবে বলে মেলা পরিদর্শন শেষে মত প্রকাশ করেন জেদ্দা কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ফয়সাল আহমেদ।
মেলায় বাংলাদেশ, সৌদি আরব, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্কের রাষ্ট্রীয় এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় বলে জানায় মেলার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আল হারথি কোম্পানি ফর এক্সিবিশন।








