ভারতের মনিপুরের মানবাধিকার কর্মী এবং লৌহমানবী খ্যাত ইরম শর্মিলা চানু সামরিক বাহিনীর বিশেষ আইন বাতিলের দাবিতে অনশন করেছেন টানা ১৬টি বছর। আইনটি বাতিল করতে পারেননি। অনশন ভেঙ্গে যখন নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন, বলেছিলেন ‘রাজ্য নির্বাচনে জয়ী হয়েই আইনটি বাতিল করবো’। কিন্তু মনিপুরে তার থাউবাল আসনের ভোটাররা তাকে নিয়ে যেনো নির্দয় উপহাস করলো। তার দল পিআরজেএকে (পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স) পেলো মাত্র ৯০টি ভোট, যেখানে ‘না ভোটই’ (নান অব দ্য এ্যাবাভ-এনওটিএ) পড়েছে ১৪৩টি। টানা তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা কংগ্রেসের ওকরাম ইবোবি সিং আবার ক্ষমতাসীন হচ্ছেন।
পিআরজেএকে (পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স) সমর্থন দিয়েছিলো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। কেজরিওয়ালের দলও এবারের নির্বাচনে দেখেছে ভরাডুবি।
এই ফলের পর এটা স্পষ্ট, মনিপুরের ভোটাররা মানবাধিকার কর্মী ইরমের উপর আস্থা রাখেনি। ১৬ বছরের অনশন যখন তিনি ভেঙ্গেছিলেন তখনও তার উপর ক্ষুদ্ধ হয়েছিলো ভক্ত-সমর্থকরা। এমনকি তার পরিবারও তার এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েছিলো। তাদের সেই রাগ-অসন্তোষের প্রতিফলনই কি এই ফল? না, ইরম কিন্তু তেমন ভাবছেন না। যদি হারতে হয় তবে প্রবল প্রতিপক্ষের অর্থ-ক্ষমতার কাছেই পরাজিত হতে হবে, মন্তব্য করে গতকাল বলেছিলেন, ‘সবাই জানে পেশি শক্তি এবং টাকা ছড়ানো হয়েছে খোলাখুলিভাবে’।
থাউবাল আসনটিতে নিকটতম প্রতিদন্দ্বি বিজেপি প্রার্থী এল. বাসান্ত সিংকে ১০ হাজার ৪০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন ইবোবি সিং। এই কংগ্রেস নেতা ১৮ হাজার ৬৪৯টি ভোট পান, যেখানে বাসান্ত পান ৮ হাজার ১৭৯টি ভোট। এছাড়াও সর্বভারতীয় তৃণমুল কংগ্রেস প্রার্থী ১৪৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬৬টি ভোট পান। যার ফলে ফলাফলের দিক দিয়ে থাউবাল আসনে ইরমের অবস্থান হলো চতুর্থ।
তবে নির্বাচনে হারলেও নির্বাচনী লড়াই জারি রাখতে চান ইরম। নির্বাচনের ফল নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই জানিয়ে গতকাল বলেছিলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনেও দাঁড়াবো। তার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘থাউবাল এলাকার বাসিন্দারা তাঁর সিদ্ধান্তে খুশি। তাঁরা পরিবর্তন চান।’ কিন্তু লজ্জ্বাকর পরাজয়ই ইরমের সঙ্গী হলো।
২০০০ সালের ২ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের কাছের একটি গ্রামে ১০ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোরও ছিল। এরপরই মণিপুরের জন্য সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (আফস্পা) প্রত্যাহারের দাবি তোলেন শর্মিলা। আফস্পা বাতিলের দাবিতে টানা ১৬ বছর অনশন করেন। অনশন ভাঙ্গানোর জন্য শর্মিলাকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
টানা ১৬ বছর অনশনের পর গত বছরের ২৬ জুলাই তিনি ইম্ফল পশ্চিমের মুখ্য জেলা বিচারক এল টনসিংকে কথা দেন, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তিনি অনশন ভাঙবেন। কথামতো ওই বছরের ৯ আগস্ট অনশন ভাঙেন ৪২ বছরের সাহসী নারী। নিজ হাতে পান করেন মধু। আদালত এদিনই তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।







