পবিত্র হজের খুতবা থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে প্রজন্মকে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সারা দুনিয়ার মুসলিমদের জন্য দিক নির্দেশনামূলক খুতবা শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিশেষ মোনাজাতে বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা করা হয়। আরাফাতের জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে আদম এবং হাওয়ার পরিচয় হয়েছিল তার পাদদেশে দাঁড়িয়ে বিদায়ী হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। সেই আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন সৌদী আরবের সর্বোচ্চ ওলামা বোর্ড এবং ফতোয়া বিভাগের সম্মানিত সদস্য ও বাদশার প্রতিনিধি শায়েখ সা-আদ বিন নাছের। তিনি বলেছেন, একটি সন্ত্রাসী দল গোটা পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। এদের থেকে দূরে থাকার আহবান জানানো হয় খুতবায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যেকোনো আন্তর্জাতিক আয়োজনেই সবচেয়ে শঙ্কা আর আলোচিত বিষয় এই জঙ্গিবাদ। ইসলাম ধর্মসহ কোন ধর্মই কোন ধরণের সহিংসতা বা উগ্রবাদ সমর্থন করে না। দু:খজনক হলেও সত্য যে, ইসলাম ধর্মের নামে কিছু আয়াতের খণ্ডিত ব্যাখায় কিছু বিপথগামী এই উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাচ্ছে। পবিত্র হজের বিরাট আয়োজনে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে সতর্কবার্তা, তা খুবই ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। হজের পরই পশু কোরবানির মাধ্যমে সারাবিশ্বের মুসলিমরা ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। প্রতীকি কোরবানি থেকে যে পশু কোরবানির প্রচলন, সেই ত্যাগের মহিমায় জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের মতো বিষয়গুলো প্রতিরোধ করা জরুরি বলে আমরা মনে করি। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানবতার শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ধর্ম চর্চা ও সচেতনতা পৃথিবী থেকে জঙ্গিবাদ রুখে দেবে, এই আমাদের আশাবাদ।







