স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর অবশেষে শেষ হতে চলেছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সাজা বাস্তবায়ন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যায় ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে আলবদর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের। একই অভিযোগে সর্বোচ্চ আদালতে আলবদর বাহিনীর প্রধান জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায়ের অপেক্ষমান।
একাত্তরে দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর প্রশিক্ষিত আল-বদর এবং আল-শামস বাহিনী স্বাধীনতাকামী বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা করে। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ইতিহাসের জর্ঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুরু হলেও পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয় ১৪ ডিসেম্বর।
অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখকসহ চিহ্নিত ২০০ জনের মত বুদ্ধিজীবীদের চোখে কাপড় বেঁধে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ বিভিন্ন নির্যাতন কেন্দ্রে। তাদের উপর বিভৎস নির্যাতন চালানোর পর নৃশংসভাবে হত্যাকরা হয় রায়েররবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে।
এই ঘটনার ৪২ বছর পরে ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার দায়ে বিচার শুরু হয় আলবদর বাহিনীর সদস্য লন্ডনে পলাতক চৌধুরী মঈন ও যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক আশরাফুজ্জামান খানের। নিজের স্বজন হারানোর ব্যাথা বুকে চেপে প্রিয়জনদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছেন চিহ্নিত করেছেন এই অপরাধীদের।
২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগও হারিয়েছে তারা। ধরা পড়ার পরপরই তাদের রায় কার্যকর হওয়ার কথা। একই ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের। তার অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যা ছিল ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাযজ্ঞ।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে হত্যা করা হলো তাদেও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে ফেলে দেওয়া হলো, এটা সম্পূর্ণভাবে করেছে আল বদররা। আল-বদরও যখন তৈরি হয়েছিলো তখন মওলানা মতিউর রহমান নিজামী ওই দলটির প্রধান। তারপরেই প্রধান হলেন মুজাহিদ। এই দুই জনের আমলেই আল-বদরের উৎপত্তি, গঠন এদেও কার্যক্রম সব শুরু হয়েছে।
বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা স্বীকার করলেও আসামীপক্ষের রয়েছে ভীন্নমত। আসামী পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে তাদের নিদিষ্টভাবে বলা হয়, ঢালাওভাবে তো বলা যাবেনা। যদি তারা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে তবে সেক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। কিন্ত তাদেরকে যদি সহোযোগী ভূমিকায় আনা হয় সেক্ষেত্রে যদি তাদেও বিচার হয় সে বিচারের ক্ষেত্রে আদালত তাদের দলের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব নিবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী বলেছেন, এই বিচার পুরো জাতিরই চাওয়া। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আরো বলেন, পাকবাহিনীর আত্নসমার্পনের সময়ে ঠিক যখন তাদেরও একটার পর একটা ঘাটির পতন হচ্ছে; ঠিক সেই সময়ে স্বাধীনতার দুই দিন আগে এদের বাড়ি ঘর চিনিয়ে দেওয়া তাদের ব্যাপার না। এটা আমাদের দেশে তাদের দোশর ছিলো আল-বদর বাহিনী তদারাই করেছে।
অন্যান্য অপরাধের সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগও আছে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টেও আপিল বিভাগ সে রায় ঘোষণা করবেন ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি।






