‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ একটি মহা মূল্যবান দলিল এই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মক্ষণের প্রস্তুতির। বিট্রিশ বিরোধি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এই বাংলার একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে। অবশ্যম্ভাবী তিনি হয়ে উঠেন বাংলার স্বার্থ রক্ষার প্রধান পুরুষ। স্বভাবতই তার আন্দোলন সংগ্রামকে কখনো ভালো চোখে দেখেনি পাকিস্তান সরকার। ফলে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচীকে সরকারি বাহিনী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। পাকিস্তানি সরকারের আমলে তিনি প্রায় সতেরো বছর জেল খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান ভাঙ্গার অভিযোগ প্রথম থেকেই ছিল। এই সব এস বি রিপোর্টে প্রমাণ মিলছে। তিনি প্রথম থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। আন্দোলনের কৌশল হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ’ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বিবেচিত ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশিত সকল নথিতে দেখা যায় এ সবই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ছিল তার রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার কৌশল। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তার প্রতি যে পাকিস্তানি সরকার তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিল তার প্রমাণ এই এস বি রিপোর্টের সংকলন থেকে বোঝা যায়।
এই মূল্যবান গ্রন্থের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে ইতিহাস, তার আরেকটি নতুন অধ্যায় সূচিত হল। এক শ্রেণীর সুশীল ও বাংলাদেশ বিরোধীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি বঙ্গবন্ধু, এ কথা নানাভাবে প্রচার করে চলেছে দীর্ঘ অর্ধশতক। যদিও গত দুই দশক বিভিন্ন প্রামাণিক দালিলিক ঐতিহাসিক তথ্য প্রকাশের পর সেসব অপপ্রচার আর ধোপে টেকেনি। এই বইটি আরেক নতুন সম্ভাবনার দিক উম্মোচন করেছে এবং প্রকাশিত পাকিস্তানিদের গোয়েন্দা নজরদারির ঘটনাগুলো সেসব অপপ্রচারের মুখে জল ঢেলে দিয়েছে। যদিও অনেক মূল্যবান নথি হারিয়ে গেছে কিংবা ধ্বংস করা হয়েছে, তবু যা পেয়েছি আমরা তাতে এই বাংলার ইতিহাস বিকৃত করার রাস্তা পুরোটাই হারিয়ে গেলো বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু বিরোধীদের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করার আর কোন খড়কুটোও অবশিষ্ট থাকল না। ১৪ খণ্ডের পুরো দলিল একেকটি জীবন্ত ইতিহাস। এখানে দুটি এসবি রিপোর্টে দেখা যায়, তার সেই তেজোদীপ্ত মনোভাব। ০১.০৬.১৯৪৮ সালে নরসীংদী জেলার ঈদগাহ মাঠের এক জনসভায় যুবক শেখ মুজিব বলেন, আমি বাংলার তরুণদের পক্ষ থেকে প্রতিজ্ঞা করছি, আমরা গরীব মানুষদের বাঁচাতে যে কোন ত্যাগ করব এবং তাদেরকে মরতে দেব না । আরেকটিতে লেখা- এক আইবি অফিসার ১৫.০৬.১৯৫০ সালে বন্দি শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে লিখেন- তিনি তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেননি এবং তার মনোভাব শক্ত।
এই ইতিহাস উম্মোচনের নিরলস প্রয়াস যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। গবেষকদের এই সত্য নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। জাতি হিসেবে আমরা একটি ঐতিহাসিক সংহত অবস্থানের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।








