চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

  • নির্বাচন ২০২৬
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

সেলিম আল দীনকে বুঝতে হলে দেশটাকে ভালোবাসতে হবে

শ�?ভাশিস ব�?যানার�?জি শ�?ভশ�?ভাশিস ব�?যানার�?জি শ�?ভ
১২:২৫ পূর্বাহ্ন ১৪, জানুয়ারি ২০১৬
মতামত
A A

প্রতিভার স্থায়ীত্ব কি সত্যিই ক্ষণস্থায়ী? মাঝে মধ্যেই এ কথাটি স্মরণে আসে। আর স্মরণে আসে তখনই; যখন আমাদের মধ্য থেকে অনন্য কোনো প্রতিভার অকাল প্রয়াণ হয়। এরই প্রমাণ রেখে গেছেন বর্তমানকালের দুই বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার সেলিম আল দীন।

মাত্র ৪ দিনের অসুস্থতায় ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের নাট্যভূমির, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের নাট্যকর্মীদের। 

সেলিম আল দীন (১৮ আগস্ট, ১৯৪৯-১৪ জানুয়ারি, ২০০৮) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন।

সেলিম আল দীনের বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। সেই সূত্রে বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি ছিল তার চরম ঝোঁক। তাই দূরে কাছে নতুন বই দেখলেই পড়ে ফেলতেন এক নিমেষে। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর লেখক হওয়ার বিষয়ে পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।

লেখক হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে, কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার মাধ্যমে। আমেরিকার কৃষাঙ্গদের নিয়ে লেখা তার বাংলা প্রবন্ধ নিগ্রো সাহিত্য ছাপা হয় ওই পত্রিকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম আল দীন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিটপীতে, কপি রাইটার হিসাবে। 

১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ওই বছরই বেগমজাদী মেহেরুন্নেসার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের একমাত্র সন্তান মইনুল হাসানের অকালমৃত্যু হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই।

Reneta

ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফকে সাথী করে গড়ে তোলেন গ্রাম থিয়েটার। তার প্রথম রেডিও নাটক বিপরীত তমসায় ১৯৬৯ সালে এবং টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় লিব্রিয়াম (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।

আমিরুল হক চৌধুরী নির্দেশিত এবং বহুবচন প্রযোজিত প্রথম মঞ্চনাটক সর্প বিষয়ক গল্প মঞ্চায়ন করা হয় ১৯৭২ সালে। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন। তার রচিত হরগজ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে।

সেলিম আল দীনের প্রথমদিককার নাটকের মধ্যে সর্প বিষয়ক গল্প, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, মূল সমস্যা, এগুলোর নাম ঘুরে ফিরে আসে। সেই সঙ্গে প্রাচ্য, র্কীত্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতি কন্যার মন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি ও চাকা তাকে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

জীবনের শেষ ভাগে নিমজ্জন নামে মহাকাব্যিক এক উপাখ্যান বেরিয়ে আসে সেলিম আল দীনের কলম থেকে। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে পান কথাসাহিত্য পুরস্কার। ১৯৯৪ সালে তিনি নান্দিকার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাটক রচয়িতার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি পান শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচনার জন্য জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার। খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পান ২০০১ সালে।

সেলিম আল দীন বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানীয় পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন ২০০৭ সালে। ১৯৯৫ সালে তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক এর উপর গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।

সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চায় এত বহুমাত্রিক অবদান রয়েছে যে, সামান্য কথায় তা বর্ণনা করা কঠিন। সেলিম আল দীন প্রধানত ছিলেন একজন নাট্যকার। আর দশজন সাধারণ নাট্যকারের সঙ্গে তাকেই মিলিয়ে দেখলে চলে না, আমাদের নাট্যচর্চায় তার আবির্ভাব ছিলো আগ্নেয়গিরির মতো। জীবনের প্রথম থেকেই তিনি ছাই ও জঞ্জাল চাপা দেয়া ঔপনিবেশিক নাট্যরীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।

সে বিদ্রোহ ছিলো অসাধারণ অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে সত্যকে আবিস্কার করার পণ। ঔপনিবেশিকমনস্কতায় বেড়ে ওঠা বুদ্ধিজীবীরা যখন কেবলই পাশ্চাত্য নাট্যরীতিকে একমাত্র অবলম্বন ভেবে এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই সেলিম আল দীন বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস নিয়ে পথ আগলে দাঁড়ালেন। চিৎকার করে বলে উঠলেন, দাড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব বঙ্গে…।

সেলিম আল দীন ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী মানুষ। সমাজ-জীবনের নানা জঞ্জাল থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন, নিমগ্ন থাকতেন তার সৃষ্টির সংগ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দীর্ঘ জীবন তিনি এভাবেই এগিয়ে গেছেন।একেকটি নাটক রচনার পেছনে দীর্ঘ অনুশীলন ছিলো তার।

যে পটভূমিতে তিনি দাঁড়াতেন তাকে আত্মস্থ করতেন,যে চরিত্রগুলো নির্মাণ করতেন তার আদ্যন্ত চিনে নিতেন তিনি। অচেনা চরিত্রকে কখনো চিত্রিত করতেন না তিনি। সেলিম আল দীন বিশ্বাস করতেন নাটকের পাণ্ডুলিপি হতে হবে পাঠযোগ্য এবং তাকে দিতে হবে যথার্থ সাহিত্য মূল্য। নাটকের গতানুগতিক গদ্যভিত্তিক সংলাপকে বর্ণনা করে তিনি নিয়েছিলেন কাব্যময়তার আশ্রয়। তাই তার সংলাপে ছিল সৃজনশীল কাব্যময়তা, সে সঙ্গে অসাধারণ উপমা।

সেলিম আল দীনের সৃষ্টিশীল রচনা নাসির উদ্দীনের হাতের স্পর্শে হয়ে উঠেছে মহাকাব্যিক প্রযোজনা। ঢাকা থিয়েটারের উদ্যমী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাকে করে তুলেছেন গতিময়। এ এক মহাযজ্ঞ। র্কীত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, হাতহদাই, চাকা, বনপাংশুল থেকে নিমজ্জন প্রতিটি প্রযোজনা একেকটি শিল্পভুবন।

সেলিম আল দীন প্রধানত ছিলেন একজন রাজনৈতিক মানুষ। তার রচনায় সাধারণত প্রথাগত রাজনৈতিক উদাহরণ খুব উচ্ছ্বসিত থাকত না; কিন্তু নাটকজুড়ে নানা শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হতো রাজনৈতিক চেতনা।

রাষ্ট্রের শৃঙ্খলবিরোধী এ মহান মানুষটি আগাগোড়া ছিলেন মার্কসবাদে বিশ্বাসী। সে সঙ্গে সেলিম আল দীন ধর্মীয় কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলেন সদা সোচ্চার।

তার নাটকে ধর্মের তথাকথিত নিয়মরীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল শৈলিক ও নান্দনিক। একজন নাট্যপুরুষ তার নিজের জীবনের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও বাস্তব জ্ঞান সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ক্রমেই হয়ে উঠেছিলেন এক দার্শনিক। তার শিল্পদর্শন ক্রমেই যখন বাঙালি সংস্কৃতির শিকড় স্পর্শ করছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

সেলিম আল দীন যেসব নাটক লিখছিলেন তা কেবল নাটক-ই ছিলো না, নাটককে ছাড়িয়ে হয়ে উঠছিল আরো বেশি কিছু। ক্রমেই এভাবে তিনি নিজেকে শিল্প শিখরে উত্তীর্ণ করছিলেন। কর্মমুখী, আজীবন শিল্পসাধনায় নিমজ্জিত সেলিম আল দীনের প্রতি রইলো আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: সেলিম আল দীন
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

গোপালগঞ্জের তিন এমপির কার কী শিক্ষাগত যোগ্যতা

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী ভাষণ

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন একটি স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন: বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

রশিদের ৭০০, প্রথম জয় আফগানিস্তানের

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

সহকর্মীদের প্রার্থনায় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT