পাকিস্তানকে হারাতে না পারায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির সেমিফাইনালের আশা পূরণ হল না বাংলাদেশের। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টে জয়হীন আর বড় সব হারের মধ্য দিয়ে হল বিদায়।
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে লিগপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আশরাফুল ইসলামের দলের হয়ে দুটি গোলই করেছেন আরশাদ হোসেন।
রোববারের হারে পাঁচ দলের টুর্নামেন্টে কোনো পয়েন্ট তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তান দুই ড্র এবং এক জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে হল তিন নম্বর। সমান পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় চার নম্বরে থেকে সেমিতে খেলবে জাপান।
টেবিলে সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত, পয়েন্ট ১০। সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ জাপান। সাউথ কোরিয়ার পয়েন্ট ৬, তারা পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকল। সেমিতে পাকিস্তানের সাথে লড়বে।
প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৯ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে লড়াই করে কোরিয়ার বিপক্ষে হারে ৩-২ ব্যবধানে। তৃতীয় ম্যাচে জাপান ৫ গোল জড়ায় আশরাফুলদের জালে।
ম্যাচ শুরুর ৪০ সেকেন্ডের মাথায় পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় পাকিস্তান। প্রথম পাঁচ মিনিট বাংলাদেশ রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খায়। তিন মিনিটে অল্পের জন্য দলকে গোল হজম থেকে বাঁচান গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর।
ছয় মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। মিস হিটে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। দশ মিনিটের মাথায় পাকিস্তানের গোলরক্ষককে একা পেয়েও দিন মোহাম্মাদ ইমন ফিনিশিং দিতে না পারায় লাল-সবুজের দল আক্ষেপে পোড়ে।
১৩ মিনিটে আসে অসাধারণ মুহূর্ত। আরশাদ হোসেন ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়ে তোলেন।
সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের মিনিটে ফিল্ড গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান নাদিম আহমেদ। ১৮ মিনিটে আজাজ আহমেদ লক্ষ্যভেদ করলে গোবিনাথের দল পিছিয়ে পড়ে।
ছয় মিনিট পর আফরাজ ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৩-১এ নিয়ে জান। দুই মিনিট পর পাকিস্তানের হয়ে গোলের হালি পূরণ করেন নাদিম আহমেদ।
ম্যাচে একের পর এক মিস হিট, প্রতিপক্ষের স্টিকে বারবার বল উপহার দেয়া এবং গতির সাথে পেরে না ওঠাই আশরাফুলদের ভুগিয়েছে। সাউথ কোরিয়ার সাথের লড়াকু মেজাজ এদিন মাঠে দেখাই যায়নি।
৩৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সহজে বল ক্লিয়ার করতে না পারার খেসারত দেয় বাংলাদেশ। মাহমুদ রাজ্জাক নিশানাভেদ করলে বড় পরাজয়ের সামনে দাঁড়াতে হয় আশরাফুলের দলকে।
পরের মিনিটে বাংলাদেশকে আবারও খানিক আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন ফিল্ড গোল করা আরশাদ হোসেন। তাতেও থামেনি পাকিস্তানের জালে বল পাঠানো, আজাজ আহমেদ তাদের হয়ে ছয় নম্বর গোলটি করেন।








