সবার আগে আইপিএলের চলতি আসর থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। দলটির হাতে থাকা অবশিষ্ট ম্যাচগুলোকে কেবল নিয়মরক্ষার হলেও প্রতিপক্ষের জন্য তা প্লে অফে খেলার রাস্তা মসৃণের সুযোগ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অবশ্য সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ। ঘরের মাঠে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সূর্যকুমার যাদবের অপরাজিত ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটের সান্ত্বনার জয়ে মাঠ ছাড়ে মুম্বাই।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা হায়দরাবাদ স্কোরবোর্ডে জমা করে ৮ উইকেটে ১৭৩ রান। জবাবে মুম্বাই ১৬ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায়।
ম্যাচ হেরে যাওয়ায় এক ধাপ পিছিয়ে টেবিলের চার নম্বরে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া হায়দরাবাদ। সমান খেলায় ১২ পয়েন্টে থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থাকায় তিনে রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের চেন্নাই সুপার কিংস। প্লে অফের টিকিট কেটে টেবিলের শীর্ষে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে সবার আগে প্লে অফ নিশ্চিত করা রাজস্থান রয়্যালসের পয়েন্ট ১৬ হলেও রানরেটে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে আছে । মুম্বাই ১২ খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে গুজরাট টাইটান্সকে টপকে টেবিলের তলানি থেকে নবম স্থানে এসেছে।
উদ্বোধনী জুটিতে অভিষেক শর্মাকে নিয়ে ৫৬ রানের জুটি গড়েন ট্রাভিস হেড। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে অভিষেক ফিরলে অরেঞ্জ আর্মিরা প্রথম উইকেট হারায়।
দারুণ সূচনা পেলেও নিয়মিত উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদ চাপে পড়ে। একপর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৯৬ রান। তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ক্রিজ ছাড়ার আগে ৩০ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন হেড।
নিতীশ কুমার রেড্ডি ২০, মার্কো জানসেন ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন। পীযুষ চাওলার বলে ব্যক্তিগত মাত্র দুই রানে বোল্ড হন হেনরিখ ক্লাসেন। শেষদিকে প্যাট কামিন্সের ১৭ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রানের অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলায় চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় হায়দরাবাদ।
বল হাতে মুম্বাইয়ের হয়ে চার ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া ৩১ ও চাওলা ৩৩ রান খরচায় ৩ উইকেট দখল করেন
ঘরের মাঠে লক্ষ্য তাড়ায় ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে মুম্বাই। ঈশান কিষাণ ৯ রানে জানসেনের শিকারে পরিণত হন। মাত্র ৪ রানে কামিন্সের বলে ক্লাসেনের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন রোহিত শর্মা। রানের খাতা না খুলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন নামান ধীর।
চতুর্থ উইকেটে তিলক ভার্মাকে নিয়ে ১৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে অতিথিদের ম্যাচ থেকে একেবারেই ছিটকে দেন সূর্যকুমার। বাইশ গজে শাসন চালিয়ে ৫১ বলে ১২ চার ও ৬ ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন। ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই খেলার সমাপ্তি টানেন। তিলক ৩২ বলে ৬ চারে ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
হায়দরাবাদের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, জানসেন ও কামিন্স।







