স্বামী শাহনেওয়াজ আর দুই সন্তান সারলিন ও জায়ানের পর দগ্ধ গৃহকর্তী সুমাইয়াও মৃত্যুবরণ করেছেন। এই নিয়ে উত্তরায় রান্না ঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী আর দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার জনের করুন মৃত্যু হলো। সমাপ্তি হলো সুন্দর একটি পরিবার এবং তাদের স্বপ্নেরও। মৃত্যুর আগে সুমাইয়া রাজধানীর সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে দগ্ধ হওয়ার পর থেকে বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন তিন সন্তানের জননী সুমাইয়ার অবস্থা ছিলো আশঙ্কাজনক। স্বজনরা বলছেন, সারা শরীরে ব্যান্ডেজ বাঁধা সুমাইয়া প্রথম দিকে স্বামী আর তিন সন্তানের খবর জানতে চাচ্ছিলেন।
কিন্তু তিনি ক্রমেই সেই শক্তিও হারান। এই অবস্থায় গত মঙ্গলবার জারিফের মা সুমায়াইকে ঢাকা মেডিকেল থেকে রাজধানীর বেসরকারী সিটি হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। বিস্ফোরণের দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ঘণ্টার কম সময়ে সুমাইয়া তার প্রিয় বড় ছেলে সন্তান সারলিন এবং চৌদ্দ মাস বয়সী জায়ানকে হারান।
শনিবার ওই দুই সন্তানের মরদেহ যখন বরিশালের নবগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখন বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে সন্ধায় মারা যান সুমাইয়ার স্বামী ঢাকার মার্কিন দুতাবাসের প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। ওই বার্ন ইউনিটেরই মহিলা ওয়ার্ডে তখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন সুমাইয়া।
সুমাইয়ার অবস্থার অবনতিতে স্বজনেরা তার বেঁচে ওঠার আশা ছেড়ে দেন। স্বামী শাহনেওয়াজের সঙ্গে স্ত্রী সুমাইয়াকেও গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে নেয়ার জন্য শাহনেওয়াজের মরদেহ রাখা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে।
পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহনেওয়াজের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল থেকে বারডেম হাসপাতালের হিমঘর হয়ে পরদিন ঝালকাঠির নিজ বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
২৯ ফেব্রুয়ারি এর মধ্যেই সুমাইয়া-শাহনেওয়াজের বেঁচে যাওয়া একমাত্র সন্তান জারিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় রাজধানীর সিটি হাসপাতালে। ৬ মার্চ সকালে তাকে বাসায় নিয়ে যান স্বজনেরা।
মা-বাবা আর প্রিয় সন্তানের কেউ ফিরলো না তাদের প্রিয় পরিবার বা প্রিয় বন্ধনে। স্বজনেরা বলছেন, একই পরিবারের চার সদস্যের এই মৃত্যুতে একটি সুন্দর জীবন ও স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি হয়েছে। সুমাইয়া-শাহনেওয়া দম্পত্তি তাদের বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান জারিফের জন্য রেখে গেলেন নিদারুণ শূন্যতা।






