আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপি আর অংশগ্রহণ করবে কিনা বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
মওদুদ বলেছেন: খুলনা নির্বাচনে নীরব কারচুপি হয়েছে। সুতরাং এখন আমাদের দুটি বিষয় চিন্তা করতে হবে, প্রথমত: আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপির আর অংশগ্রহণ করবে কিনা? বিষয়টি আমাদের নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান ইসি অদক্ষ, অযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্ট, দলবাজ একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। সুতরাং বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এছাড়া এই ইসির অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কি করবো না, এটাও চিন্তা করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ লক্ষীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে না, এটা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণ বিচারকদের সরকার যা বলবে, তারা তাই করবেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: আইনি লড়াইয়ে এককভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা সুবিধাজনক হবে না। সেই জন্য রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। আর আমাদের ধীরে-ধীরে কঠোর কর্মসূচির কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না- সেটা নির্ভর করবে রাজপথের আন্দোলনে। তাই ঈদের পরে আমাদের নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।
‘তাই দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। শেষ পর্যন্ত রাজপথের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে’, বলেন মওদুদ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন: হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে এবং আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। এখন মুক্তি দিতে অসুবিধাটা কোথায়? কেনো বেগম জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না? এটা দেশবাসীকে জানতে হবে। নিম্ন আদালতের কারণে! আর নিম্ন আদালত কার অধীনে কাজ করে? নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। অর্থাৎ সরকারের অধীনে কাজ করে। সুতরাং নিম্ন আদালত স্বাধীন না।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন: উচ্চতর আদালত তাকে (খালেদা জিয়া) জামিন দিয়েছে, তাকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। কেন? কারণ সরকারের অপকৌশল, ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা রয়েছে, বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করা, তাকে নির্মূল করা এবং যতো পারো মামলা দাও। আগে ছিল ৬টি মামলা, গতকাল আরো ২ মামলা দেয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোতে জামিন বহাল রেখে তাকে আমরা মুক্ত করতে পারবো না। কারণ তারা (সরকার) চেষ্টা করবে, এ মামলাগুলোতে আরো লম্বা-লম্বা তারিখ দেয়া।
বিএনপি চেয়ারপর্সন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবি- শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অায়োজক সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী প্রমুখ।








