এখনকার সময় যোগাযোগ আর শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো ভীষণ কাজের। আর সেলিব্রিটিদের জন্য তো কথাই নেই। পরিচিতি বাড়ানো, ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকা, নিজেদের ছোট ছোট খবর সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া- সামাজিক মাধ্যম ছাড়া আজকাল এসব প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু সামাজিক মাধ্যম শুধু সুবিধাই দেয় না, অনেক বড় বড় অসুবিধাও এনে দেয়। প্রশংসা শোনার পাশাপাশি অকারণ অপমানেরও সুযোগ করে দেয় সামাজিক মাধ্যম। বিশেষ করে তারকাদের জন্য এসব সহ্য করা নিত্যদিনের ব্যাপার।তাই এবার সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো অসামাজিক মানুষগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন অষ্টাদশী সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেন্ডায়া কোলম্যান। কারণ অনেক কিছু সহ্য করলেও বাবা-মা’র অপমান সইতে পারেননি তিনি।
গত ২১ আগস্ট জেন্ডায়ার টুইটার পেজে এক ফলোয়ার একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিতে জেন্ডায়াকে দেখা যায় বাবা কাজেম্বে আজামু কোলম্যান এবং মা ক্লেয়ার স্টোরমারের সঙ্গে। পোস্টে ওই ফলোয়ারের দেওয়া ক্যাপশনের মানে করলে দাঁড়ায়, এমন দু’জন মানুষের এতো সুন্দর সন্তান হওয়া অস্বাভাবিক একটা ব্যাপার
অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই আরো অনেক টুইটার ব্যবহারকারী ওই ছবিতে কমেন্ট করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা বিভিন্নভাবে জেন্ডায়ার বাবা-মায়ের চেহারা নিয়ে তিরস্কার করতে থাকে; তাদের কুৎসিত বলতে থাকে। এমনকি অনেকে কয়েক কদম এগিয়ে এমনটাও বলা শুরু করে যে, তাদের বাবা-মা জেন্ডায়ার বাবা-মার মতো দেখতে হলে তারা কান্নাকাটি শুরু করতো!
বিভিন্ন বিষয়ে কখনো এ ধরনের বিদ্বেষমূলক এবং অপমানজনক কমেন্ট শুনতে হয়নি, এমন তারকা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অনেকেই এ ধরনের পোস্ট বা কমেন্টে কষ্ট পেয়ে ভক্তদের কাছ থেকে সরে যান, অনেকে আবার দেখেও না দেখার ভান করেন, কারণ এ ধরনের নীচু মানসিকতার লোকদের কিছু বলতে যাওয়াও বোকামি মনে করেন তারা। কেউ কেউ আবার সহ্য করতে না পেরে তাদের মতোই নীচু স্তরে নেমে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
কিন্তু ঝগড়াঝাঁটির ধার দিয়েও গেলেন না জেন্ডায়া। বরং তার বাবা-মাকে নিয়ে উপহাস করা ফলোয়ারদের উদ্দেশ্যে নিজের এবং বাবা-মার হাস্যোজ্জ্বল ছবির সঙ্গে তিনি লিখলেন একটি ঠাণ্ডা মাথার ম্যাসেজ। সেখানে তিনি এমনভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন, যেনো তার বাবা-মাকে বিদ্রুপকারী মানুষগুলো নিজেদের কৃতকর্মের জন্য নিজেরাই অনুতপ্ত হয়।
জেন্ডায়া লিখলেন, ‘প্রথমেই আমি তোমাদের জন্য প্রার্থনা করছি। তোমরা যেহেতু আমার বাবা-মা দেখতে কেমন, তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত, জেনে রাখো, এরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ দু’জন মানুষ। তারা নিজেদের সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন শিক্ষক হিসেবে, তরুণ, সঙ্কীর্ণ মনগুলোকে শিক্ষা দিয়ে পূর্ণ করার মধ্য দিয়ে; অন্যের চেহারা, বা বাবা-মাকে অপমান করার পেছনে সময় নষ্ট করেননি।’
‘তাই প্লিজ, লগ আউট করো, স্কুলে যাও, তোমার শিক্ষককে জড়িয়ে ধরো আর বই পড়ো…আর তখন আয়নায় একবার নিজেকে দেখে জেনে নিও তুমিও সুন্দর, কারণ ওই ঘৃণ্য কথাগুলো শুধু মনের ভেতরকার অস্থিরতা থেকেই বেরিয়ে আসে। প্রার্থনা করি, তোমার আমার আর আমার সুন্দর পরিবারের জন্য।’ সাধারণ, সুন্দর, হালকা কিছু কথা; কিন্তু কতটা শক্তি লুকানো তাতে!
আশা করা যায় জেন্ডায়ার ওই শান্ত কথাগুলো ইন্টারনেটের ওই বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী আর ‘সাইবার বুলি’দের মনকে অশান্ত করে তুলবে এবং কিছুটা হলেও শিক্ষা দেবে।
সেলিব্রিটিদের সোশ্যাল পেজগুলো মানুষ বেশি দেখে। তাই সেগুলোতে অপ্রীতিকর কমেন্ট এবং পোস্টের সংখ্যা বেশি থাকে। আর সেকারণে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনাও বেশি হয়। যেমন বেশ কিছুদিন আগে হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব এবং নাসিরকে নিয়ে।
কিন্তু এ ধরনের সাইবার হামলায় এর চেয়েও বেশি আঘাত এবং অপমানের শিকার হয়ে শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, বাস্তব জীবন থেকেও অনেক সময় দূরে সরে যেতে হয় অনেককে। ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ছবি, স্প্যামজাতীয় পোস্ট এবং অপ্রীতিকর কমেন্ট দিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের। এধরনের কুকর্ম যারা করে তাদেরকেই বলা হয় সাইবার বুলি।
তাই সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু নিজেকে এবং নিজের মতকে প্রকাশ করার জায়গা নয়; অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে অন্যের জীবন বিষিয়ে তুলে তার মত প্রকাশে বাঁধা দেওয়ার প্ল্যাটফর্মও সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক সবসময় নিজের জীবনকে বইয়ের মতো সাজিয়ে ধরা নয়; ফেসবুক কখনো অন্যের বইয়ের পাতায় অপমান আর বিদ্বেষের কালিতে কাটাকুটি করাও হতে পারে। যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বইয়ের পাতাই হয়তো ছিঁড়ে যাবে একসময়।







