ভারতের কেরালার রাজ্যের সাবারিমালা মন্দিরে নারী সাংবাদিকদের প্রেরণ না করতে মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকটি কট্টরপন্থীর সংগঠন ‘সাবারিমালা কর্ম সমিতি’। সাবারিমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশেষ পূজার রিপোর্ট করতে নারী সাংবাদিক না পাঠাতে আহবান করা হয়।
রোববার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু ঐক্যবদ্ধ পরিষদ এর যৌথ সংগঠন ‘সাবারিমালা কর্ম সমিতি’ এর পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আহ্বান করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।
সম্পাদকদের কছে পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সের বাইরের কোন নারী সাংবাদিক যদি প্রতিবেদনের জন্য যায় তাহলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমরা আশা করি আপনারা এমন কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না যাতে করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উপাস্য দেবী আয়াপ্পা ওই মন্দির সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশেষ পূজা উপলক্ষে মন্দিরের গেট সন্ধ্যায় খুলে দেয়া হবে। মন্দিরটি আগামী মঙ্গলবার রাত দশটায় বন্ধ করা হবে। অাবার ১৭ নভেম্বর থেকে পূণ্যার্থীদের দর্শনের জন্য তিন মাসের জন্য পুনরায় খোলা হবে।
কেরালার সাবারিমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারী প্রবেশে বহু শতাব্দী পুরনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের পর এমন ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো।
ওই মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পা একজন চিরকুমারী হওয়ায় সেখানে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশের বাধা দিয়ে আসছে ওই সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কেরালার সাবারিমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ করাতে প্রশাসন অনমনীয়, যা মন্দিরের বহু শতাব্দীর পুরনো ঐতিহ্য, প্রথার বিরোধী।
এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নারীদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের রিট পিটিশনের পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য্য করা হয় ১৩ নভেম্বর।
গতমাসে দুই নারী- সাংবাদিক কবিতা জগদল এবং সমাজকর্মী রেহানা ফাতিমা প্রায় শ’খানেক দাঙ্গা পুলিশ সদস্য নিয়ে মন্দিরের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। শেষ প্রায় ৫ কিলোমিটার বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথর থেকে পুলিশই তাদের রক্ষা করে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এনডিটিভি জানায়, কেরালা থেকে যাওয়া নারী লিবি সিএস একজন সাংবাদিক। তিনি রওনা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবারিমালায় যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে তাদের বাধা দানকারী ভক্তরা ওই স্ট্যাটাস দেখেছিল।
সাবারিমালা থেকে ৪.৬ কিলোমিটার দূরে পামবা এলাকায় ভক্তদের একটি দল লিবিদের ওপর হামলা করতে এগোলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বাঁচিয়ে ফেরত নিয়ে আসে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেরালার বিখ্যাত সাবারিমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পা একজন চিরকুমারী এবং পিরিয়ড হওয়ার বয়স হয়েছে এমন সব নারী ‘অপবিত্র’।







