বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে শিশুদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম এটা পড়ে তার (বঙ্গবন্ধু) গল্পটা জানুক। বঙ্গবন্ধু মানুষটা কেমন ছিলেন, তিনি কী করতেন, তিনি কীভাবে বেড়ে উঠলেন। সাধারণ ছেলের অসাধারণ গল্পটা সবার কাছে নিয়ে যেতে চাই। যাপিত জীবনে সাধারণ থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেড়ে ওঠা ছিল ঠিক গল্পের মতোই।
সাধারণ ছেলের অসাধারণ জীবনের গল্প নিয়েই গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’।গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’র ২য় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এমনটাই বললেন।
জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে নির্মিত গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’। প্রথম খণ্ডের পর মেলার ১৩তম দিনে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) স্টলের সামনে ২য় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন হয়।
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ছিলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম এটা পড়ে তার (বঙ্গবন্ধু) গল্পটা জানুক। বঙ্গবন্ধু মানুষটা কেমন ছিলেন, তিনি কী করতেন, তিনি কীভাবে বেড়ে উঠলেন। সাধারণ ছেলের অসাধারণ গল্পটা সবার কাছে নিয়ে যেতে চাই’।
বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র আরও বলেন, ‘আমি এখানে এসে আনন্দিত। আজকে এখানে এমন একটা সুযোগ পেয়েছি, আমার নানার ওপর নির্মিত গ্রাফিক নভেল নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। এদিনটা আমি জীবনেও ভুলব না’। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর গল্পটা নিয়ে যাওয়া। ছোটো ভাইবোনেরা যারা এখানে আছে তারা যেন বঙ্গবন্ধুর গল্পটা জানতে পারে, শিখতে পারে।
‘প্রথম পর্ব-এ আমরা দেখেছিলাম, বঙ্গবন্ধু যখন ছোটো ছিলেন, একটি গ্রামের সাধারণ ছেলে তখন উনি কীভাবে দিন কাটাতেন, ফুটবল খেলতেন, মজা করতেন, দুষ্টুমি করতেন, ডক্টরের কাছ থেকে পালাতে চেষ্টা করতেন…সব ছেলে মেয়ের জীবনেও এই ছোটোখাটো অভিজ্ঞতাগুলো থেকে থাকে।’- বলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। আর এই পর্বে আমরা দেখছি ওনার ভেতরে রাজনীতির আগুন কীভাবে জ্বলে উঠলো। কীভাবে ওনার গুরু, যাকে তিনি পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে ওনার সম্পর্ক গড়ে উঠলো।
খুদে পাঠকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বলেন, ‘বঙ্গন্ধুর গল্প থেকে তোমরা যে জিনিসটা শিখতে পার, পরিশ্রম এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে, যাদের প্রতি অন্যায় হচ্ছে তাদের জন্য দাঁড়ালে তোমরা অনেক কিছু করতে পারবে, অনেক বড় হতে পারবে’।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর , সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক,প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।
প্রথম খণ্ডর মতো দ্বিতীয় খণ্ডেরও সম্পাদনা করেছেন শিবু কুমার শীল। চিত্রায়নে ছিলেন সৈয়দ রাশাদ ইমান তন্ময় ও এ বি এম সালাহউদ্দিন শুভ। গত বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হয়েছিল এই বইয়ের প্রথম খণ্ড। জানা গেছে, ক্রমান্বয়ে মোট ১২টি খণ্ডে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি তুলে ধরা হবে। চলতি বছরের বাকি ১০টি খণ্ড বের হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাণ্ডুলিপি দেখে দেওয়ার পর এই গ্রাফিক নভেল প্রকাশ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত কারাগারে বন্দি থাকাকালে আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন। কিন্তু তা শেষ করে যেতে পারেননি। চারটি খাতায় তার লেখা সেই পাণ্ডুলিপি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘দি আনফিনিশড মেমোরিজ’ নামে ২০১২ সালে প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, লেখকের বংশ পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতির ইতিবৃত্ত রয়েছে। কারাগার ও বাইরের জীবন, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার-পরিজনের কথাও এতে বলেছেন বঙ্গবন্ধু।







