ঢাকার মঞ্চে প্রথম বনমানুষ এসেছিল ২০১৩ সালে। সত্যিকারের বনমানুষ নয়। নাটকের অনুবাদ গল্প হয়ে। যেখানে দেখা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরের পানি কেটে কেটে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে জাহাজ। উপর তলার গোলপি গাল বেয়ে বেয়ে ঝড়ছে মদের ফোটা। আর নিচতলায় কালি কুলি মাখা কয়লা দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করা মানুষগুলোর গাল বেয়েও চুয়ে পড়ছে তরল পদার্থ তবে এটা ঘাম।
তাদের বিশ্বাস তারাই জাহাজ পরিচালনা করছে। তারাই জীবিত আর উপরতলার মানুষ মৃত। উপরতলার পুঁজিপতির আদুরে কন্যা ডগলাস। একটু আধটু মানুষ নিয়ে ভাবা তার একটি নৈতিক ফ্যাশন। জাহাজের খোলে তাই সে এসে হাজির হয় এই শ্রমিকদের দেখতে। কিন্তু কয়লা শ্রমিক ইয়াংককে দেখে সে ভয় পেয়ে যায়। তাকে সে বানর ভেবে বসে। ইয়াংক যখন বিষয়টি বুঝতে পারে তখন ঘৃণার বিদ্রোহ জন্ম নেয় তার মনে। জাহাজ বন্দরে ভিড়লে ইয়াংকে নিয়ে তার এক সহযোগী বের হয় শহর ঘুরতে। শহরের এই জাকজমকতাও তাকে আরও ক্ষিপ্ত করে তোলে। তার মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয় নানারকম পাগলামির বেশে। অবশেষে জেলবাস। জেল থেকে পালিয়ে সে চলে যায় চিড়িয়াখানায়। বনমানুষের খাঁচার কাছে গিয়ে সে বক্তৃতার ঢঙে বোঝাতে চেষ্টা করে তার ব্যাথা। এবং একটি পর্যায়ে বন মানুষটাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু অবশেষে বন মানুষের আক্রমনে নিহত হয় ইয়াংক।
প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং এ- ডিজাইন এর ২৩ তম ব্যাচের প্রদর্শিত নাটক আমেরিকান নাট্যকার ইউজিন ওনিলে-র ‘দি হেয়ারি এপ’ আবার মঞ্চে ফিরছে। প্রাচ্যনাট এর ২৭তম প্রযোজনা ‘বনমানুষ’ এর নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ হলে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে মাইম আর্ট প্রাধান্য দেওয়া ‘বনমানুষ’। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন শশাঙ্ক সাহা, তৌফিকুল ইসলাম ইমন,সাদিকা স্বর্ণা, নায়মী নাফসীন, সোহেল মণ্ডল, এবিএস জেম, মোঃ আব্দুর রহীম খান, চেতনা রহমান ভাষা সোহেল রানা, ফুয়াদ প্রমুখ।
নির্দেশক বাকার বকুল বলেন, ‘নাটকের মূল চরিত্র ইয়াংকের তীব্র বেদনা বোধ ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর লাঞ্ছিত নিপীড়ত মানুষের আর্ত হাহাকার ও ক্ষোভ তুলে ধরা হয়েছে। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতিগত পর্যায় থেকে পরিবার কিংবা ব্যাক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত পুঁজিবাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ। আর যে অনুপ্রবেশকে বিশ্বায়নের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়।







