চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

শাইখ সিরাজ: কোটি কৃষকের আপন স্বর

রোবায়েত ফেরদৌস রোবায়েত ফেরদৌস
৩:৫২ অপরাহ্ণ ০৭, সেপ্টেম্বর ২০১৭
মতামত
A A
শাইখ সিরাজের ছবি, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক ও উপস্থাপক. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

শুভ জন্মদিন! আজ বহু মানুষের জন্মদিন! সবাইকে আমার অন্তর থেকে শুভেচ্ছা; কিন্তু সবার মধ্যে একজন বিশেষ ব্যক্তির জন্যে রইলো বিশেষ প্রীতি ও আবেগতাড়িত শুভেচ্ছা; জন্মদিনের অফুরান শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা জানাই শাইখ সিরাজকে। কেন তিনি বিশেষ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার অধিকারী? কৃষিপ্রধান এ দেশের অবহেলিত, দারিদ্র্যক্লিষ্ট লাখো কৃষকের তিনি আপন আর আন্তারক কণ্ঠস্বর; কেউ তাঁকে হাতে তুলে বানায়নি, নিজ কর্মগুণেই হয়ে উঠেছেন তাঁদের মুখপাত্র।

কৃষক আর শাইখ- যেনো দু’জনে দু’জনার! গবেষণার কাজে আমার সুযোগ হয়েছিলো বাংলাদেশের বেশ কিছু গ্রাম চষে বেড়ানোর। আমি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করেছি সাধারণ প্রান্তিক কৃষকরা তাঁদের প্রিয় শাইখ সিরাজকে কতোটা আপন ভাবেন, কতোটা ভালোবাসেন, কতোটা প্রিয় আর কাছের মনে করেন; কৃষকের ‘পরানের গহীন ভেতরে’ তাঁর স্থান; বয়স্ক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি তাঁর জন্য কৃষকরা নামাজ শেষে দোয়া করেন! একজন মানুষ কতোট অকৃত্রিম হলে সাধারণের সঙ্গে এতোটা নিরেট আর নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন, ভাবতেও অবাক লাগে! আর শুধু গ্রাম-গঞ্জের ক্ষেত-খামারেই নয়, ইট-পাথরের শহরে একটি বাড়ির ছাদ বা এক টুকরো বারান্দায়ও যে হতে পারে ফুল-ফল-সবজির চাষ, সেটিও তিনি বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

অনাদিকাল ধরেই এ দেশ কৃষিপ্রধান, কিন্তু কৃষির এ দেশে কৃষকের কথা শোনার কোনো মানুষ ছিলো না, তাদের হয়ে আওয়াজ তোলার কোনো কন্ঠ ছিলো না; বস্তুগত কোনো প্রাপ্তিযোগের আশায় নয় বরং দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি নাড়ির টানে তিনি তাঁর কর্ম-ধ্যান-জ্ঞান হিসেবে বেছে নিয়েছেন ওই ‘চাষা-ভূষাদের’। কৃষকদের নিয়ে পুরাকালে কোনো এক কবি বলেছিলেন, ‘দধীচী কি তাঁহার চেয়ে সাধক ছিলেন বড়ো, পুণ্য অতো হবে নাকো সব করিলে জড়।’ আর এ কালে, যাদের কথা কেউ বলে না, যাদের দিকে কেউ দৃষ্টি দেয় না, যারা অপাঙ্ক্তেয়, চির অবহেলিত, সেই কৃষকদেরই শাইখ সিরাজ ‘করিয়াছেন জীবনের ধ্রুবতারা’। এই মানুষটির জন্যে তাই বিশেষ প্রীতি, ভালোবাসা আর অতল শ্রদ্ধা!

এ দেশের অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষি এবং দেশের অন্তত সত্তর শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর এখনও নির্ভরশীল। অথচ কৃষিপ্রধান এ দেশের অর্থনীতির অবহেলিত খাতগুলোর মধ্যে কৃষি নিজেই একটি। যুগোপযোগী কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন-বিতরণ-ব্যবহারের প্রবণতা স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এ দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়েনি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কৃষির যে পাঠ্যসূচি রয়েছে তা-ও ঠিক পর্যাপ্ত বা যথেষ্ট আধুনিক – এমনটি জোর দিয়ে বলা যাবে না। কৃষি-অন্ত-প্রাণ এ দেশে কৃষিকে ঘিরে যে আয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে আমাদের দেখার কথা ছিল, তা কেন যেন আমরা ঠিকভাবে দেখতে পাইনি। কিন্তু একান্ত দায়িত্ববোধের তাড়নায় যে ব্যক্তিটি সেই প্রায় শূন্যতা থেকে উত্তরণের মহান ব্রতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে চলেছেন, সেই কর্মবীর ব্যক্তিটি হলেন শাইখ সিরাজ।দুই ব্যক্তি কৃষি ক্ষেত্রের মধ্যে আলোচনা করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নিছক উন্নয়ন বা কৃষি সাংবাদিকতা নয়, এর মাধ্যমে কোটি মানুষের প্রাণকে স্পর্শ করেছেন তিনি; মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন মাটির কাছে, হৃদয়ের টানে। সাংবাদিকতাকে শহরের অভিজাত ড্রয়িং রুম থেকে তিনি গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। শাইখ সিরাজ তাঁর টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষিজীবীদের জীবনধারা চিত্রিত করেছেন, তাঁদের প্রতিদিনকার সুখ-দুঃখ আর আনন্দ-বেদনার কথা তুলে এনেছেন।

১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’-এর যে যাত্রা তিনি শুরু করেন এর মাধ্যমে শুধু যে লাখো কৃষকের জীবন পাল্টেছে তা নয়, পাল্টেছে কৃষিতে অবহেলার চিরায়ত চিত্রও। পরে প্রাইভেট স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই-এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষক, কৃষি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা নিয়ে সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলোকে নজরে আনতে থাকেন। ক্রমান্বয়ে এ দেশের গণমাধ্যমে কৃষি বিষয়ক প্রচারণার নতুন পথ রচনা করে চলেছেন তিনি; এরই পথ ধরে দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে এখন কৃষি বিষয়ক খবর গুরুত্ব পাচ্ছে; কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উদ্ভাবন, গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা বিষয়ক খবর এখন নিয়মিত খবরের অংশ। কৃষিপণ্যকে শিল্পপণ্যে রূপ দেওয়া যে কৃষি অর্থনীতির জন্যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, তা উপলব্ধি করে এ বিষয়েও দিনের পর দিন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেসি করেছেন তিনি। এভাবে গণমাধ্যমকে উন্নয়নমুখি করার ক্ষেত্রে এ অবদান অনেক বড়।

Reneta

বাংলাদেশ টেলিভিশন হয়ে বর্তমানে চ্যানেল আই-এর সূত্র ধরে শাইখ সিরাজ নিয়মিতভাবে সফল কৃষক ও কৃষি সাফল্য, ফলন বৈচিত্র্য, কৃষি ও কৃষকের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, বাজার ব্যবস্থার সঙ্কট নিরূপণ ও সমাধানের পথনির্দেশ, কৃষি উপকরণের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি, মাটির স্বাস্থ্য, জৈব কৃষি, পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপট, গ্রাম পর্যায়ে অবকাঠামো সঙ্কট, উচ্চ মূল্যের কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, কৃষকদের সংগঠিত করা, উন্নত দেশগুলোর কৃষি সফলতা ও সেরা অনুশীলনগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের কৃষকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন দেশে বাঙালি কৃষি উদ্যোক্তাদের সাফল্য, দেশের কৃষিপণ্যগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধাগুলো চিহ্নিত করা ও তা দূর করতে সরকারের নীতি পরিচালনা ও উদ্যোগগুলোর ওপর আলোকপাতসহ কৃষি-সংশ্লিষ্ট হেনো ইস্যু নেই যা নিয়ে তিনি অনুষ্ঠান করেননি। এর পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে তাদের অধিকার সচেতন করা ও রাষ্ট্রের নীতি পরিচালনার সঙ্গে তাদের বিষয়গুলো যুক্ত করার পেছনেও শাইখ সিরাজ অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। সংবাদে যেখানে কৃষিখাতই ছিলো উপেক্ষিত, সেখানে শাইখ সিরাজ কৃষককে দাঁড় করিয়েছেন টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে; কৃষকের মুখ থেকেই তিনি তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করেছেন তাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর চ্যালেঞ্জের কথা। বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এটি রীতিমত বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এর মাধ্যমে একদিকে শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেমন কৃষক, কৃষি ও গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে আগ্রহ ও জানা-শোনা বাড়লো, অন্যদিকে গ্রামীণ জনপদে টেলিভিশন মিডিয়ার উপযোগ ও জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। শাইখ সিরাজ টেলিভিশনের মতো শক্তিশালী গণমাধ্যমের নগরকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতাকে ভেঙ্গে বিশাল পরিধিতে নিয়ে গেছেন। তার একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন আজ শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই, টেলিভিশন পরিণত হয়েছে সমাজ বদলের অন্যতম এক শক্তিতে।

কৃষি ও উন্নয়নমূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও ইতিবাচক সাংবাদিকতাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে শাইখ সিরাজ বাংলাদেশে উন্নয়ন সাংবাদিকতার যে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন; এর মাধ্যমে দেশের পল্লী উন্নয়ন, শ্রমজীবী নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে কৃষিপণ্যের জীবনকাল দীর্ঘস্থায়ীকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধকরণ ও গবেষণাধর্মী প্রচার-প্রচারণার কাজ করে চলেছেন। বিশেষ করে আগামীর খাদ্য চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কার্যকর দিক নির্দেশনা বের করে আনতে ইতোমধ্যে তিনি কৃষিখাতে উন্নত দেশ চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন সফর করে সেখানকার কৃষি প্রযুক্তি ও সাফল্যের বার্তা পৌছে দিয়েছেন বাংলাদেশের তৃণমূল কৃষক পর্যায়ে।

বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম মূলত ধনীকঅভিমুখীন, পুরুষঅভিমুখীন, শহরঅভিমুখীন আর এলিটঅভিমুখীন – টকশোর আলোচক আর সংবাদের বিশেষজ্ঞ-বাইট দেখলে এ কথা সহজেই অনুমেয়। মিডিয়ার এই ব্রাহ্মণ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করেন শাইখ সিরাজ; কৃষকও যে মূলধারার গণমাধ্যমে টকশো’র আলোচক হতে পারেন, তারাও যে নিজ নিজ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন – শাইখ সিরাজ নিয়ত তার প্রমাণ রেখে চলেছেন। তবে সমালোচকরা বলেন তাঁর অনুষ্ঠানে কৃষক হিসেবে নারীর উপস্থিতি এখনও নগন্য। অথচ আমরা জানি, ধান লাগানো থেকে ফসল মাড়াই করা পর্যন্ত কৃষির যে প্রায় ২৭টি ধাপ আছে- তার ২০টিতেই নারীর ভূমিকা সক্রিয়, কিন্তু মিডিয়াতে কৃষক মানেই কেবল পুরুষের ইমেজ ভেসে ওঠে। কৃষক হিসেব নারীর একটি জোরালো আর ইতিবাচক ভাবমূর্তি নির্মাণে মূলধারার মিডিয়াকে আরো অনেকদূর যেতে হবে। জন্মদিনে, আমার অগ্রজপ্রতিম শাইখ সিরাজকে অনুরোধ করবো, এ দিকটিতে আরো বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আমিও ছাত্র ছিলাম, সেখান থেকে শাইখ সিরাজ ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রসহ এ জাতির চিন্তা ও অগ্রগতিতে সব সময়ই কান্ডারির ভূমিকা পালন করেছে। এখনও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সমাজ, অর্থনীতি বা রাজনীতিতে মূল ভূমিকা রাখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইগণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কৃতি অ্যালামনাই শাইখ সিরাজ এ দেশের কৃষি আন্দোলনের একজন পুরোধা – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আর বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে আমি তাই শাইখ সিরাজের জন্য যারপরনাই গর্বিত। আর সাংবাদিকতার ছাত্র হিসেবে কৃষি সাংবাদিকতায় তিনি যে অবদান রেখে চলেছেন সে জন্য আমি এবং আমার মতো সাংবাদিকতার অ্যাকাডেমিক জগতের অনেকেই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি ছাত্রজীবনেই সম্পৃক্ত হন গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। টেলিভিশনের সঙ্গে প্রায় তিন যুগের একনিষ্ঠ পথচলার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক হিসেবে। গণমাধ্যমে যার উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের কৃষিতে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক সাফল্য। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখি অবদান সূচিত হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে সাফল্যের অসংখ্য দৃষ্টান্ত। তাঁর কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি; ১৯৯৫ সালে উন্নয়ন সাংবাদিকতায় পান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘একুশে পদক’। যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপাইনের গুসি শান্তি পুরস্কার, ২০০৯ সালে অর্জন করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া তিনি পেয়েছেন ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ডস ও ব্রিটিশ বাঙালি সংগঠনের গ্রিন অ্যাওয়ার্ড। ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্স তাঁকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা। সব মিলিয়ে পেয়েছেন প্রায় অর্ধশত পুরস্কার ও সম্মাননা। এছাড়া শ্রীলংকার ইয়াং এশিয়া টেলিভিশন শাইখ সিরাজের জীবন ও কর্মকাণ্ডের ওপর ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে যা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচার করেছে রয়টার্স টেলিভিশন ও ৫টি দেশের সমন্বিত টেলিভিশন কার্যক্রম সাউথ এশিয়া।

দেশের কৃষি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে দেশের পত্র-পত্রিকায় শাইখ সিরাজের রয়েছে সরব উপস্থিতি। দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত লেখেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মৎস্য ম্যানুয়েল, মাটি ও মানুষের চাষবাস, ফার্মার্স ফাইল, মাটির কাছে মানুষের কাছে, বাংলাদেশের কৃষি : প্রেক্ষাপট ২০০৮, কৃষি ও গণমাধ্যম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (সম্পাদিত), আমার স্বপ্নের কৃষি, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (২০১১), সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১১), কৃষি ও উন্নয়নচিন্তা (২০১৩) ইত্যাদি। বর্তমানে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রায় তিন যুগ আগে কৃষি সাংবাদিকতার মাধ্যমে উন্নয়ন সাংবাদিকতার যে পথটি তিনি দেখিয়েছিলেন, সে পথে আজও তিনি হেঁটে চলেছেন বিরামহীন, শ্রান্তি-ক্লান্তিহীন। আজ তাঁর জন্মদিনে বলবো, শাইখ সিরাজ সুস্থ থাকুন, আগামী দিনগুলোতেও এ দেশের কৃষকের অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে একইভাবে কাজ করে যান, এই দেশের মাটি ও মানুষের জন্যে। জয়তু শাইখ সিরাজ!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: শাইখ সিরাজ
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ফিফার সেরা একাদশের ভোটে নেই কুবারসি, আছেন মেসি-এমবাপে-হালান্ড

জুলাই ২১, ২০২৬

হস্তশিল্প খাতের উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও বাংলাক্রাফটের সমঝোতা স্মারক সই

জুলাই ২১, ২০২৬

বিশ্বকাপ তারকা ওলিসেকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সাবেক প্রেমিকার

জুলাই ২১, ২০২৬

দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে শেখ হাসিনাকে: আসিফ নজরুল

জুলাই ২১, ২০২৬

২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ বাড়ল ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা

জুলাই ২১, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2026 Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT