রূপকথার লড়াই উপহার দিয়ে আগের দিনই জুভেন্টাসকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে নিয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অতটা কঠিন পরিস্থিতি থেকে না হলেও ছিটকে যাওয়ার ভ্রূকুটি ছিলই বার্সেলোনার। তবে ছোট সেই শঙ্কা নিয়ে মাঠে নামা বার্সেলোনাকে ছন্দময় ফুটবলে দাপুটে জয় এনে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেন লিওনেল মেসি।
শেষ ষোলোর প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে গোলশূন্য ড্রতে শেষ করেছিল বার্সেলোনা। ফলে ঘরের মাঠে লিওঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ ছিল প্রায় নকআউট। তাতে একক আধিপত্য রেখেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পৌঁছে গেছেন মেসিরা।
যদিও তুরিনে রোনালদো কার্যত একার কাঁধে টানেন ওল্ড লেডিদের। মেসি এক্ষেত্রে কাতালান ক্লাবকে পরের রাউন্ডে তুলে নিয়ে যেতে পাশে পেলেন কৌতিনহো, পিকে, ডেম্বেলেদের। অলিম্পিক লিওঁর ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে আসা বার্সেলোনা ন্যু ক্যাম্পে ফরাসি দলটিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয় এবং রেকর্ড ১২বার টানা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের দরজা খুলে ফেলে।
ম্যাচে পাঁচ গোল বার্সার। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই চাপ তাদের। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করে শিরোনামে ছিলেন রোনালদো। তার ঠিক পরেরদিন মাঠে নেমে গোল করলেন মেসিও। ম্যাচে জোড়া গোল করেন তিনি। সঙ্গে জোড়া অ্যাসিস্ট। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে তার প্রথম গোলে খাতা খোলে বার্সা। মেসির অপর গোলটি দ্বিতীয়ার্ধে। বার্সার বাকি গোলগুলো যথাক্রমে উসমান ডেম্বেলে, জেরার্ড পিকে এবং ফিলিপে কৌতিনহোর। লিওঁর হয়ে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল শোধ করেন টুসার্ট।
মাঠে নামার আগে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে অবশ্য এগিয়ে ছিল বার্সেলোনাই। আগে লিওঁর বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিনটি হোম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছিল বার্সা। গোল করেছিল ১০টি। তাদের গোল হজম করতে হয় মাত্র ২টি। এই ম্যাচের পর জয়ের সংখ্যাটা গিয়ে চারে দাঁড়াল। গোলসংখ্যা এক লাফে গিয়ে দাঁড়াল পনেরোতে। অবশ্য গোল হজম করতে হয় সাকুল্যে তিনটি।
ঘরের মাঠে একরকম চাপে থেকেই শেষ আটের লক্ষ্যে মাঠে নামতে হয় কাতালানদের। ঘরের মাঠে খেলা হলেও বার্সাকে চিন্তায় রাখে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচগুলো। যেখানে এগিয়ে থেকে পরে বিদায় নিতে হয়েছে অনেক হেভিওয়েট দলকে। যার সবশেষ সাক্ষী স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। প্রথম লেগে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও বিদায়।
আট মৌসুম একই মাটিতে লড়াই করেছেন। এখন দুজন দুই দেশে। তবুও লড়াই থামেনি রোনালদো-মেসির। ফলে আগের রাতে রোনালদো হ্যাটট্রিক করে মেসির ওপর বাড়তি চাপ দিয়ে রেখেছিলেন! সেই চাপে যে মোটেও বাঁকা হননি মেসি, জোড়া গোলের সঙ্গে জোড়া অ্যাসিস্টে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ম্যাচের ১৬ মিনিটের মাথায় দেনায়ের নিজেদের বক্সে স্লাইড করে সুয়ারেজকে ফাউল করেন এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ১৭ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে মেসি ১-০ এগিয়ে দেন বার্সেলোনাকে। ৩১ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে গোল করে বার্সার ব্যবধান ২-০ করেন কৌতিনহো। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়ে কাতালান ক্লাবের অনুকূলে ২-০ গোলে।
হাফটাইমের পরে গোল ব্যবধান কমান লিওঁর টুসার্ট। ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। ৭৮ মিনিটে সার্জিও বুটসকেটসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন মেসি। ৮১ মিনিটে পিকেকে গোলের পাস বাড়ান এলএম টেন। এদিন এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোলের নিরিখে পিকে ছুঁয়ে ফেলেন নিজের অতীতের রেকর্ড। ২০১৪-১৫ মৌসুমে মোট ৭টি গোল করেছিলেন তিনি। এবার লা লিগায় ৪টি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দু’টি ও সুপার কাপে একটি গোল আসা পিকের পা থেকে।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে মেসি গোলের বল বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলেকে। লিওঁর জালে বল জড়িয়ে ডেম্বেলে বার্সার হয়ে পাঁচ গোলের বৃত্ত পূর্ণ করেন। ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১। দু’টি গোল করে এবং দু’টি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা হন মেসি।
এদিনের অন্য হেভিওয়েট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনুখ এবং লিভারপুল। প্রথম লেগে এই ম্যাচটিও ছিল গোলশূন্য। অনেকে মনে করেছিলেন দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে কিছুটা অ্যাডভান্টেজ নিয়ে নামবে বায়ার্ন। কিন্তু পুরো ঘটনাই ঘটল উল্টো।
পজেশনাল ফুটবলে বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণের দিক দিয়ে লিভারপুল ছিল এগিয়ে। যার ফল, সাদিও মানের জোড়া গোল এবং ভ্যানডাইকের গোলে পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে গেছে গতবারের ফাইনাইলিস্ট অল রেডরা।







