রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার সুর বদল করেছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। জাপানের টোকিওতে এনএইচকে-কে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন: ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেছেন: ‘রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা রাখাইন রাজ্যের এই মুহূর্তের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে পারছেন না। সবাই বলছে দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার কথা। সবকিছু খুব দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে এমনটাই আশা করেন সবাই। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের সঙ্গে তাল মেলাতে এখনই আমাদের সেই সামর্থ্য নেই।’
অং সান সু চির এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত নই। বরং এক্ষেত্রে আমরা বরাবরের মতো বলতে চাই, অতি দ্রুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিতে হবে। কারণ, এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, মিয়ানমারকেই এর সমাধান করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মদদে তারা মাত্র কয়েক মাসে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য মানবিক সংকটের তৈরি করতে পারলে এক বছর শেষ হয়ে গেলেও এখনও কেন তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে পারবে না?
সু চির কথায় বোঝা গেছে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে মিয়ানমার। এজন্য জাপানের সহায়তা চেয়েছেন অং সান সু চি। তিনি বলেছেন: ‘বিশ্বের কাছে এই সমস্যাটা পাহাড় সমান হয়েছে। তবে জাপানের সাহায্যর দিকে তাকিয়ে আছি আমরা। প্রকৃতপক্ষে সাহায্য করার চেয়ে বোঝাপড়ার বন্ধুত্ব খুব প্রয়োজন। আমরা জাপানের প্রতি আশাবাদী। আমরা আশাবাদী জাপান বিশ্বের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।’
তবে জাপান এক্ষেত্রে মানবিক বিষয় বিবেচনায় রেখে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চাপে রাখবে বলেই আমরা আশা করি। এটাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে মিয়ানমারের একমাত্র প্রাপ্য। এছাড়া স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। এই মানবিক সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে আরও একঘরে করার কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে বাংলাদেশকে।
আমরা মনে করি, মিয়ানমারের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ একটাই, তা হলো- অতি দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেয়া। এই মানবিক সংকটের সমাধান করা। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হলে সেটা তারা বলতে পারে। এছাড়া তাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ, কিংবা ধূর্ততার আশ্রয় নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।








