ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে জঙ্গি-হুমকির ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে বিষয়টি নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
একইদিনে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ এবং জনসংযোগের ভারপ্রাপ্ত স্বামী শুভকরানন্দ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন, সাউথ ব্লকে বাংলাদেশ বিষয়ক যুগ্মসচিব এবং সর্বোপরি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ রেখে চলা নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব ভাস্কর খুলবে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঘটনার অনুসন্ধান করছে নয়াদিল্লিও। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছেন, ‘হুমকি চিঠি আসার পর আমরা রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলছি। বাংলাদেশ পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের হস্তক্ষেপের পর বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকালে হাইকমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এসেছেন।’
শুক্রবার রাতে শ্রিংলা নিজেও যান মিশনে। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীকে হত্যার হুমকি দেয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে একটি নির্দিষ্ট নকশা পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনাগুলো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। টার্গেট করা হচ্ছে তাদেরই, যারা হিন্দু ধর্ম চর্চার সঙ্গে যুক্ত।
গত কয়েক মাস ধরেই রামকৃষ্ণ মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ফোন করে বা চিঠি পাঠিয়ে সন্ন্যাসীদের খুনের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। গত বছরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসে রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছুক্ষণ ধ্যানও করেন তিনি।
আনন্দবাজার জানায়, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা যেভাবে ভারত-বিরোধী জঙ্গিদের দমনে পদক্ষেপ করেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এখনও অভিযান চালাচ্ছেন, তাতে মনোবলে চিড় ধরেছে জামায়াতের।
বিশেষ করে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়েছিল হাসিনা সরকার। ওই মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষায়, ‘মনোবল ভেঙ্গে গেলে সর্বত্রই পাল্টা চোরাগুপ্তা হামলা, হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর পথে নেয় জঙ্গিরা। কাশ্মীর বা উত্তরপূর্বাঞ্চলের জঙ্গিদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা দেখা যায়।’
‘ইসলামী স্টেইট অব বাংলাদেশ (আইএস)’ নামের এক সংগঠনের প্যাডে ‘গোপন এজেন্ট’ পরিচয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ডাকযোগে পাঠানো হয়েছিল ওই চিঠি।
রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো চিঠিতে তাকে ‘সময় থাকতে’ দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বলা হয়েছে। তা না হলে ২০ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে তাকে হত্যা করা হবে এমন কথা লেখা আছে চিঠিতে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির নাম এ.বি সিদ্দিক এবং সে নিজেকে ‘সেনাবাহিনীর লোক’ বলে দাবি করেছে।








