সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ২৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ আল-আমিন এ আদেশ দেন।
এ মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ জানুয়ারি। ওই দিন পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের মালামাল জব্দ করতেও আদেশ দেন বিচারক।
পলাতক আসামিরা হলেন- সাভার পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক (সাধারণ, ঢাকা বিভাগ ) মো. জামশেদুর রহমান, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিদর্শক (প্রকৌশল) মো. ইউসুফ আলী, ঢাকা বিভাগের পরিদর্শক (প্রকৌশল) মো. সহিদুল ইসলাম, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, ইথার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কন্ট্রাকটার, মো. আব্দুল হামিদ, আব্দুল মজিদ, মো. আমিনুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, মো. ইউসুফ আলী ও তসলিম।
অভিযোগপত্রভুক্ত আরো ১৮ আসামির মধ্যে শুধু ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া বাকিরা জামিনে আছেন।
এরা হলেন- রানার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো, সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, অনিল দাস, শাহ আলম, আবুল হাসান, মোহাম্মদ আলী খান ও রাকিবুল হাসান।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক, যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
এ ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলায় চলতি বছরের ১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ( সিআইডি) সহকারী সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম ৪২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
দুই মামলার মধ্যে ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রানা, তার মা ও বাবাসহ ১৭ জন দুই মামলাতেই আসামি হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জন।







