বয়স ৩৪ পেরিয়েছে ৬৭দিন আগে। সমবয়সী অনেকেই খেলে যাচ্ছেন। কিন্তু রাজিন সালেহ কোথাও নেই। কপাল তার এমনই, অবসর নেয়ার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ লিগেও একটি ম্যাচ পাচ্ছেন না। বিদায় নিতে চেয়েও নিতে পারছেন না বিদায়!
২০০৮ সালে বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ টেস্ট খেলা রাজিন সালেহ আশায় ছিলেন বিদায়ের মঞ্চ হবে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ পদ্ধতির প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাকে নেয়নি কোনো দল।
জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘২০ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ খেলছি। চেয়েছিলাম কোনো দল পেলে অন্তত একটি ম্যাচ খেলে মাঠের ক্রিকেটকে বিদায় জানাব।’ রাজিন সালেহ বলেন আর আক্ষেপ করেন, ‘কিন্তু তা হল না। প্লেয়ার বাই চয়েজ ফেরায় দল পাইনি। কী আর করা…। যদি এখানে খেলতে না পারি তাহলে পরের বছর যেকোনো একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে বিদায় নিব। আর মাঠের ক্রিকেট খেলব না।’
বাংলাদেশর হয়ে ২৪ টেস্ট, ৪৩ ওয়ানডে খেলা রাজিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেও আনুষ্ঠানিক বিদায় পাননি। তাতে আক্ষেপ নেই। কিন্তু দুই দশক ঢাকা লিগে খেলা একজন ক্রিকেটারের নীরবে প্রস্থান হবে তা নিজেই মেনে নিতে পারছেন না।
রাজিন গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দলবদল হলে কোনো না কোনো ক্লাবে ঠিকই খেলা হত বলে মনে করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় লিগে নিজের শেষ ইনিংসে ১০৪ রানের ইনিংস খেলায় আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন অন্তত পরেরবার জাতীয় লিগের একটি ম্যাচ খেলা হবে তার।
মাত্র ১২ বছর বয়সে ক্রিকেটকে জীবনের অংশ বানান সিলেটের সন্তান রাজিন সালেহ। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় নির্মাণ ক্রিকেট একাডেমীর হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন। এরপর সিলেট ক্রিকেট লিগ দিয়ে পেশাদার ক্রিকেটের পথে যাত্রা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ আসে ১৯৯৭ সালে। আর ২০০০-২০০১ মৌসুমে শুরু করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে হয় টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক। ২০০৬ সালে ওয়ানডে ও তার দুই বছর পর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর তার আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি।
অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে গেছেন নিরলসভাবে। ১৪২ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৮টি সেঞ্চুরি ও ৪০ ফিফটিতে করেছেন ৮১৩৫ রান। ১৪০ লিস্ট ‘এ ক্রিকেটে ৫ সেঞ্চুরি সঙ্গে ১৪ ফিফটি।







