চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতটা আগে থেকেই বাড়তি টেনশনে ভরা ছিল। লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির যুদ্ধ সেই টেনশনটা আরো বাড়িয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগেই তৈরি হওয়া যুদ্ধের আবহটা জারি থাকে মাঠেও। বাড়তি টেনশনের ম্যাচে অবশ্য জয় পেয়েছে লিভারপুল। প্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকা ম্যানসিটিকে ৩-০ গোলে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে অলরেডরা।
পরিবেশ যে উত্তপ্ত হবে লিভারপুল সমর্থকরা ম্যাচের আগেই তার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সীমা অতিক্রম করে। ম্যানসিটির বাসে পানীয়র ক্যান ছুঁড়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন এতে। লিভারপুল কর্তৃপক্ষ পরে ক্ষমা চেয়ে নেন গার্দিওলার কাছে।
তবে ফুটবল ম্যাচ খেলতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে বিভ্রান্ত পেপ। মেসিদের সাবেক কোচ বিভ্রান্ত হয়েছেন দলের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের ফলাফলেও।
ম্যাচের শুরু থেকে বল নিজেদের দখলে নিয়ে খেলতে থাকে সিটি। কিন্তু ১২ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের সপ্তম গোলটি করেন লিভারপুলের সেরা খেলোয়াড় মোহামেদ সালাহ। ফিরমিনোর থেকে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়েই জালে জড়ান মিশরীয় তারকা।
পরে ১৪ মিনিটে সিটিও গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সানের শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ২০ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে চেম্বারলিনের দুর্দান্ত গোল লিভারপুলকে ২-০তে এগিয়ে দেয়।
দুই গোলে খেয়ে সিটির খেলোয়াড়রা যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে ৩০ মিনিটে মোহামেদ সালাহর ক্রস থেকে হেডে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের সপ্তম গোলটি করেন সেনেগালের তারকা সাদিও মানে। ৪১ মিনিটে ফিরমিনোর শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে না গেলে আবারও গোলের আনন্দে ভাসতে পারতো লিভারপুল।
৩-০ গোলের ফলাফল নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লিভারপুল। ৫২ মিনিটে সানের শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটে সালাহ ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ওনাইলদাম। ৬৮ মিনিটে কর্নার থেকে ওটামেন্ডির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের বাকিটা সময় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয় সিটি। ফলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্লপের দল।
টিম বাসে হামলার ঘটনায় উয়েফা সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং সংস্থাটি সম্ভবত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করবে।
এই ঘটনায় ম্যানসিটি কোচ গার্দিওলা খুবই অখুশি। ম্যাচ শেষে বিটি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাতকারে বার্সা ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক কোচ বলেন, ‘আমরা এমনটা আশা করিনি। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। বিশেষ করে গত বছর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে এরকম একটি ঘটনার পর তারই পুনরাবৃত্তি হওয়া।’
ক্লাব কর্তৃপক্ষের পর প্রতিপক্ষ কোচ ও খেলোয়াড়দের কাছে আলাদা করে ক্ষমা চেয়েছেন ক্লপ, ‘আমি এর কিছু বুঝতে পারছি না। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমরা সম্ভব্য সবকিছু করেছি। তবে লিভারপুলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’







