ডান হাত স্লিংয়ে ঝুলিয়ে একজন থাকবেন গ্যালারিতে। হয়তো বা ছেলে থাকবেন পাশে। আরেকজন পুরোপুরি অন্য দেশে। তিনি হয়তো বসে থাকবেন তুরিনে নিজের বিলাসবহুল বাংলোয়। টেলিভিশনে চোখ রাখবেন কি না সেটা অবশ্য কারোই জানা নেই।
গত ৯ বছর লিওনেল মেসি বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামেই রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার এই ম্যাচের উত্তাপ ছড়াত। ৯ বছরে এই প্রথম এই দুই তারকা নেই। তারা না থাকাতে অন্যভাবে অঙ্ক কষছেন দুই দলের কোচ।
মেসি-রোনালদোর না থাকাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে। তার মন্তব্য, ‘মেসি-রোনালদো আসার আগেও এল ক্ল্যাসিকো হত। সেখানেও যথেষ্ট উদ্বেগ থাকত। এই ম্যাচ ঘিরে মাঠে তো শুয়োরের মাথাও ফেলা হয়েছে।’
দুই তারকা না থাকলেও এই ম্যাচের আবেদন যে এখনো বিশাল তা বোঝা যায় অন্য ক্লাবের ফুটবলারের কথাতেই। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড অ্যান্থনিও গ্রিজম্যান যেমন বলেছেন, ‘প্রতিটা এল ক্ল্যাসিকোর মতো এটাও একটা সুন্দর ম্যাচ হতে চলেছে। এটা খারাপ যে মেসি খেলতে পারছে না। তবে বার্সেলোনার অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা এই ম্যাচ জেতাতে পারেন। তবে রিয়ালের কিন্তু এই ম্যাচে জয় খুবই দরকার।’
শুধু মেসি-রোনালদোই নন, এই ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না আরও কয়েকজন। রিয়ালের দানি কারভাহাল এখনও সুস্থ হননি। মারিয়ানো দিয়াজের খেলাও অনিশ্চিত। বার্সেলোনায় নেই দুই ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি ও থমাস ভার্মিলান।
মেসি না থাকায় রিয়াল কোচ হুলেন লোপেতেগি কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন। যদিও মেসিকে ছাড়াও বার্সা বেশ ভালো ফর্মে। তবু ৩৮টি এল ক্ল্যাসিকোতে সর্বোচ্চ ২৬ গোল যার, সেই তারকা না থাকা তো স্বস্তিরই।
১৯৯৪ সালে গোলকিপার হিসেবে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন লোপেতেগি। তবে তিন বছরে ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন মাত্র পাঁচটা। তার মধ্যে এক ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করার পাশাপাশি অন্য ম্যাচে দেখেছিলেন লাল কার্ড। ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন কোচ জোহান ক্রুইফের সঙ্গেও। ন্যু ক্যাম্পে সেই লজ্জা ভুলে যাওয়ার সুযোগ তার সামনে। দুই মহাতারকার অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচ যেন রিয়াল কোচের পরীক্ষাও।







